মুরগির মারেক্স রোগ

মুরগির মারেক্স রোগ হারপিস ভাইরাস নামক এক প্রকার জীবাণু থেকে সৃষ্টি হয়। পূর্বে বাংলাদেশে এ রোগটি ছিলো না। এ রোগ ফাউল প্যারালাইসিসও নামেও পরিচিত হয়ে থাকে। বিশ্বের বহু দেশেই এ রোগ হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও এ রোগ হয়ে থাকে। ধারনা করা হয় যে ১৯৯০ এর দশকে বিদেশী মুরগির মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এই রোগটি বিদেশী জাতের ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগিতে প্রকট আকারে দেখা যায়। মারেক্স রোগটি Gallid alphaherpesvirus (Marek’s Disease Virus  serotype 1) দ্বারা হয়ে থাকে। এই ভাইরাসের ৩টি Serotype আছে।

১৯০৭ সালে হাঙ্গেরীতে এ রোগ আবিস্কার হয়। তারপর হতে এ রোগকে এভিয়ান লিউকোসিস গ্রুপের রোগের সাথে বর্ণনা করে হয়ে আসছে। অবশেষে ১৯৬৪ সালে একে পৃথক ভাইরাস হিসাবে চিহিৃত করে রোগের নামকরণ করা হয় মারেকস রোগ।

মুরগির মারেক্স রোগ ও লক্ষণ

মুরগির মারেক্স রোগ পরিচিতি

রোগের নামমারেক্স রোগ (Marek’s Disease)
রোগের ধরণভাইরাল
জীবাণুর নামMarek’s Disease Virus (MDV)
সংক্রমণমুরগি, কোয়েল, তিতির, টার্কি
মৃত্যুর হার৫% থেকে ৫০%
সংক্রমন সময়৬ থেকে ১০ সপ্তাহ বয়সে
চিকিৎসানাই

রোগ ছড়ানোর মাধ্যম

  1. বায়ুবাহিত এ ভাইরাস আক্রান্ত মুরগির ঘরের ধুলিকণার সাথে ছড়াতে পারে।
  2. এক মুরগি থেকে অন্য মুরগিতে সহবেই ছড়ায়।
  3. আক্রান্ত মুরগির পায়খানা, মুখের লালা ও খাবর পাত্রের মাধ্যমে ছড়ায়।
  4. রোগাক্রান্ত মুরগির ডিম থেকে বাচ্চাতে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।
  5. মুরগির লিটারে এই ভাইরাস অনেক দিন বেচে থাকে ফলে সহজে অন্য মুরগিতে সংক্রমিত হয়।

মুরগির মারেক্স রোগের লক্ষণ

  1. মুরগির মারেক্স রোগের ভাইরাস যেসব অঙ্গের স্নায়ুতে আক্রমণ করে ঐ সব অঙ্গ প্যারালাইসিস হয়ে যায়।
  2. ডানার স্নায়ু আক্রান্ত হলে ডানা ঝুলে পড়ে।
  3. পায়ের স্নায়ু আক্রান্ত হলে পা অবশ বা পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে আর হাটতে পারে না।
  4. ঘাড়ের মাংশপেশী আক্রান্ত হলে মাথা নিচু হয়ে ঝুলে পড়ে।
  5. সাধারণত ৬-১০ সপ্তাহের মোরগ-মুরগি এ রোগে বিশেষভাবে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
  6. এ রোগে আক্রান্ত মুরগি৫% থেকে ৫০% মারা যেতে পারে।
  7. খামারে এই রোগ ঢুকলে মুরগি কখনোই পুরোপুরি ভালো হয় না।
মুরগির মারেক্স রোগের লক্ষণ
চিত্র: মুরগির মারেক্স রোগের লক্ষ

চিকিৎসা ব্যবস্থা বা রোগ দমন

এটি একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। এ রোগের কোন অসুধ নেই। টিকা প্রয়োগ করে মারেক্স রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বর্তমানে অনেক হ্যাচারী থেকে সদ্য ফুটন্ত মুরগির বাচ্চা কে মারেক্স রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে থাকে। এ রোগ থেকে বাচতে খামারিকে কিছু সাবধানতা মেনে চলতে হবে।

সাবধানতা

  • মুরগির মারেক্স রোগের ভ্যাকসিন করা আছে এমন মুরগির বাচ্চা ক্রয় করতে হবে।
  • বিস্যস্ত বাচ্চা উৎপাদনকারী থেকে ১ দিন বয়সী মুরগির বাচ্চা ক্রয় করতে হবে।
  • মারেক্স ভ্যাকসিন করা আর না করা মুরগি এক সাথে পালন করলে হতে পারে।
  • লেগহর্ণ বা হালকা জাতের ডিম উৎপদনকারী মুরগির ক্ষেত্রে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • মুরগি দীর্ঘ দিন অসুখে ভুগলে এ রোগ হয়।
  • খামারের পরিবেশ মুরগির জন্য আরামদায়ক না হলে।
  • মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে মারেক্স রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

প্রত্যক্ষ এবং অপ্রত্যক্ষভাবে উভয়ই এই ভাইরাস স্বাস্থ্যকর মুরগিকে সংক্রামিত করতে পারে। বাতাসের সাহায্যে ভাইরাসটি সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে এবং এই রোগ ছড়াতে পারে। সংক্রামিত মুরগির ধুলায় বাঁচতে কয়েক সপ্তাহ থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে। সংক্রামিত মুরগির ঝরা এবং লিটারগুলি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ভাইরাস থেকে বাঁচতে সক্ষম হয়। পোকামাকড় ভাইরাস সংক্রমণ করতে পারে।

রোগের লক্ষণগুলি সংক্রামিত মুরগির জাত, বয়স এবং স্ট্রেনের উপর নির্ভর করে। ডিম থেকে ছোঁড়ার পরে আক্রান্ত শিশুটির লক্ষণগুলি দেখাতে প্রায় 3 সপ্তাহ সময় লাগে।

দেহের বাহ্যিক স্নায়ু বিশেষত ব্র্যাচিয়াল এবং লম্বো-স্যাক্রাল প্লেক্সাস স্নায়ু স্নায়ুজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তবে মস্তিস্ক এবং দেহের অন্যান্য স্নায়ুগুলিও এর প্রভাব ফেলতে পারে। যখন কোনও খামারে রোগ দেখা দেয় তখন অনেকগুলি মুরগি প্রায় একই সাথে লক্ষণগুলি দেখায়।ৎ

মুরগির মারেক্স রোগ
চিত্র: A- সাধারণ চোখ, B- ম্যারেক্স রোগে আক্রান্ত

মুরগি দুর্বল দেখা যায়। এর পরে পা ও ডানা পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়েছিল। কিছু মুরগির লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই মারা যায়। প্যারালাইসিস যখন একটি পায়ে দেখা দেয়, তখন তারা লিঙ্গ নিয়ে হাঁটতে থাকে।

উভয় পায়ে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে গেলে তারা তাদের গতিশীলতা হারাতে থাকে এবং শুয়ে পড়ে। ডানা যখন পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয় তখন এটি স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘাড় অবশ হয়ে গেলে মাথা একদিকে বাঁকা হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত মুরগির অন্ধত্ব দেখা দেয়। দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্ষেত্রে, মুরগির শরীরের ওজন হ্রাস পায়, আক্রান্ত মুরগি ফ্যাকাশে হয়ে যায় এবং ক্ষুধা হ্রাস পায়। এর সাথে ডায়রিয়াও দেখা যায়। এই কারণে মুরগি অনাহার এবং পানিশূন্যতার কারণে মারা গিয়েছিল।

মুরগির মারেক্স রোগ pdf

পোল্ট্রি খামারি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে অবশ্যই একজন খামারিকে মুরগির রোগ সমূহের উপর পূর্ণ ধারনা থাকতে হবে। মুরগির মারেক্স রোগ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে এই বই টি খুবই হেল্পফুল। বই টি ইংরেজি হলেও বোঝা খুবই সহজ।

ফ্রি ডাউনলোড করুন- Marek’s Disease Virus

মুরগির অন্যান্য রোগ

মুরগির গামবোরো রোগ মুরগির রানীক্ষেত রোগ
মুরগির ঠোকরা ঠুকরি বা ক্যানাবলিজম রোগমুরগী ডিম পাড়ার পর ডিম খাওয়ার কারণ
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!