কালোজিরা- উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

কালোজিরা

কালোজিরা সকল রোগের মহৌষধ। ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে কালোজিরা একমাত্র মৃত্যু ব্যাতিত সকল রোগের ঔষধ। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ নিয়মিত মধু অথবা অন্য কোন খাবারের সাথে খেয়ে থাকেন। বিভিন্ন প্রকার রান্নায় কম বেশি এর ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি বিভিন্ন রোগেরই মহাঔষধ। পৃথিবীর সকল দেশে প্রাচীনকাল থেকে এটি ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 

কালোজিরার উপকারিতা

  1. কালোজিরার তেল ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে।
  2. এটি শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য হরে।
  3. লেবুর রস ও কালজিরার তেল একসঙ্গে মিশিয়ে শরীরের ত্বকে ব্যবহার করলে ব্রণ সহ ত্বকের অনেক সমস্যার সমাধান পেতে পারেন। দিনে দু’বার মুখের ত্বকে ব্যবহার করুন ব্রণ ও দাগ অদৃশ্য হয়ে যাবে।
  4. এর তেল বাত রোগ, জয়েন্টে ভ্যাথা ও মাথা ব্যথার জন্য একটি ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে বলা হয়।
  5. এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় প্রদাহ, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস সহ নানান রোগের ঝুকি হ্রাস করে। এটি লিভারকে সুরক্ষিত করতে সহায়তা করে।
  6. এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে। নিয়মিত খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে।
  7. সর্দি-কাশিতেএটি দারুণ কার্যকর। এর তেল ও মধু পান করলে সর্দি ও কাশি থেকে নিরাময় পাওয়া যায়।
  8. হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট জনিত রোগের জন্য এটি অনেক বেশি উপকারী। খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন কালোজিরার ভর্তা রাখুন।
  9. নিয়মিত খেলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
  10. শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। এটি শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও অনেক সহায়ক।
  11. এটি প্রশুতি মায়ের দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছারাও গবাদি পশু যেমন গরু, ছাগলের দুধ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।
  12. এটির তেল ব্যবহারের ফলে চুলের বৃদ্ধি ভালো হয় এবং চুল পড়া বন্ধ হয়।

খাওয়ার নিয়ম

কালোজিরা বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়। শুধু শুধু চিবিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি পানের সাথে, চায়ের সাথে, মধুর সাথে, ঝালমুড়ির সাথে, বিভিন্ন তরকারি ও ভাতের সাথে আরো নানা ভাবে এটি খাওয়া হয়। এর স্বাদটিও চমৎকার। মসুর ডালের সাথে এর ভর্তা খেতে দারণ লাগে।

কালোজিরা- উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
Nigella sativa

যারা খেয়েছেন তারা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন। এর তেল বাজারে উচু দামে বিক্রি হয়। এই তেলও বিভিন্ন ভাবে খাওয়া হয়। যেমন চা ও মধুর সাথে, সরাসরি, পানির সাথে প্রভৃতি ভাবে খাওয়া হয়।

বর্তমানে ফার্মাসিটিক্যাল কম্পানির ক্যাপসুল আকারে পাওয়া যায়। এগুলোও খাওয়া যেতে পারে।

কালোজিরার তেল

এটি black seed oil নামে পরিচিত। এর বহুমুখি ব্যবহারের নিমিত্বে এর থেকে তেল তৈরি করা হয়। এই তেল খাওয়া সহ ব্যাথা বা ত্বকের সমস্যায় মালিশ করা হয়। এই তেল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ করে থাকে।

মধু

কালোজিরা ফুলের মধু প্রচন্ড উপকারি খাদ্য। এই মধুতে কালিজিরার পুষ্টিগুন বিদ্যমান থাকে। ফলে এটি আরো বেশি গ্রহণযোগ্যতা সুষ্টি করে। সাধারণত এই মধু উৎপাদন করতে কালিজিরার চাষ করতে হয়। অথবা যেসকল অন্চলে এর আবাদ আছে সেসকল এলাকাতে মৌমাছি কালচারের মাধ্যমে খাটি মধু সংগ্রহ করা হয়।

কালোজিরা

আমাদের দেশের অনেকেই অনলাইনে এই মধু বিক্রি করছেন। দেখাগেছে অনেকেরই এর আবাদ নেই। তারা বিদেশ থেকে আমদানি করে কিনা আমি যানি না। তবে অনলাইনে এই মধু কিনতে চাইছে দেখেনিতে হবে যে, খামারির এটি কিভাবে সংগ্রহ করে।

ক্ষতিকর দিক

এটি কিছু স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে ঠিকই কিন্তু এটি ওষুধের স্থান নেয় না। ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের ভেসজ ঔষধ ব্যবহারের আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ানো মহিলাদের তাদের ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত। এর তেল ব্যবহারে সাময়ীকভাবে অ্যালার্জিক ফুসকুড়ি সৃষ্টি করতে পারে।

চোখ, নাক, এবং শরীরের অন্যান্য সংবেদনশীল অংশ থেকে তেল দূরে রাখাতে হবে। তেল গিলে খাওয়ার ফলে মাঝে মাঝে হজমের সমস্যা হতে পারে, যেমন পেট খারাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং বমি।

কালোজিরা ও মেথি

কালোজিরা ও মেথি নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে মাথায় ও চুরে ব্যবহার কররে চুল পড়া কমিয়ে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তেলটি বানাতে প্রথমে কালোজিরা এবং মেথি কড়া রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।

এরপর একসঙ্গে গুঁড়া করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণটিকে কয়েক মিনিট আগুনে ফুটিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার পর একটি কাঁচের বোতলে সংরক্ষণ করতে হবে। এভাবে সংরক্ষণ করলে অন্তত তিন সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে।

কালোজিরা ও রসুন একসাথে পরিমান মত সেবন করলে কিছু উপকারিতা পাওয়া যায়। অনেক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের মতে এটি যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে।

আরো পড়ুন- বচ- একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গাছ

1 thought on “কালোজিরা- উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম”

Leave a Comment

Your email address will not be published.