দেশি কবুতর পালন পদ্ধতি- রোগ ও চিকিৎসা

দেশি কবুতর পালন পদ্ধতি। দেশী বা গোলা কবুতর পালন পদ্ধতি খুব সহজ। এদের খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না এবং এদের বাচ্চা উৎপাদন হারও বেশি। এদের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও খরচ খুবই সামান্য। দেশি কবুতর পালন পদ্ধতির অন্যতম দিক হলো এরা প্রচন্ড রোগ প্রতিরোধী।

দেশি কবুতরের ঘর তৈরি

দেশি কবুদেশি কবুতর পালন জন্য প্রথমে কাক, বিড়াল, বৃষ্টির জল এসব থেকে মুক্ত একটি জায়গা বা স্থান বেছে নিতে হবে। বাড়ির ছাদে ও দেয়ালে চালা তৈরি করে কবুতরদের জন্য ঘর স্থাপন করতে হবে। কাঠ মিস্ত্রি দ্বারা ছোট ছোট কাঠের খোপ বা বাক্স তৈরি করে নিতে হবে।

প্রতি জোড়া দেশি কবুতর পালন এর জন্য 2 টি ঘর বরাদ্দ রাখতে হবে। এর অন্যতম কারণ হল, অনেক কবুতর আছে যারা বাচ্চা থাকা অবস্থায় আবার ডিম দেয় অথবা বাচ্চা বড় হলে পুরুষ বা নর কবুররের এক ঘরে জায়গা হয় না। তাই ২টি ঘর অবশ্যই তাদের দরকার। প্রতিটা ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত যায়গা রাখতে হবে। সকলখোপ বা বাক্সের সামনে প্রশস্ত ল্যান্ডিং স্পেস রাখতে হবে।

সবচেয়ে ভাল হয় কবুতরের জন্য একটি আলাদা বড় ঘর তৈরি করা। ঘরটি বাড়ির ছাদে অথবা বাড়ির সামনে হলেও সমস্যা নেয়। ঘরের মধ্যে কবুতরের খোপ বসিয়ে সেখানে পালন করা উত্তম। কবুতরের ঘরে ঢালাই ছাদ দিলে সবচেয়ে ভাল হয়। এছাড়াও সিমেন্টের টিন বা টালি দেওয়া যেতে পারে এতে ঘরের ভেতর সূর্যের তাপ খুব প্রবেশ করতে পারবে না, ফলে বাসস্থান ঠান্ডা থাকবে।

ঘরে পর্যাপ্ত আলে ও বাতাস যেন চলাচল করতে পারে সেজন্য ঘরের যেকোনো ২ দিকের দেয়ালে বড় নেট দিতে হবে। এছাড়াও ঘরের উপরের দিকে চার দেয়ালেই ভেন্টিলেটর যুক্ত করতে হবে। আমরা বেশীরভাগ সময় কবুতরের বাসস্থান স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে পারিনা, ফলে খুব সহজেই কবুতর রোগাক্রান্ত হয়।

দেশি কবুতরের ঘর তৈরি
দেশি কবুতর পালন করা হচ্ছে

কবুতর নির্বাচন

দেশি কবুতর পালন এর জন্য কবুতর কেনার ব্যাপারে কিছু কিছু বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। তানা হলে শুরুতেই সমস্যা তৈরী হবে।

  • দেখে ও বুঝে রোগমুক্ত কবুতর ক্রয় করতে হবে।
  • বাড়ির আসে পাশে থেকে কবুতর ক্রয় করা যাবে না। কাছাকাছি জায়গা থেকে কিনলে কবুতর আগের বাড়িতে চলে যাবে। নিজ উপজেলার বাইরে থেকে ক্রয় করা উচৎ।
  • নবীন বা বাচ্চা কবুতর দেখে কিনতে হবে এরা তারাতারি পোষ মানে। এছাড়াও বেশি বয়সের কবুতরে সমস্যা থাকা স্বাভাবিক।
  • নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া জড়াসই কবুতর কখনোই কেনা যাবে না। দেখা যায় বাজারে সমস্যা ছাড়া জোড়াসই কবুতর কেউ বিক্রি করে না।

দেশি কবুতর পালন পদ্ধতি

বাজার থেকে কবুতর কিনে আনার পর সেগুলোকে ১৪ দিন কেয়ারেন্টাইনে রাখা। যদি ঘরে আগে থেকে কবুতর না থাকে তাহলে সরাসরি ঘরে রাখাে যাবে। কবুতর ঘরে নেয়ার আগে পুরো ঘর জীবাণুনাশক দিয়ে আগে থেকে স্প্রে করে প্রস্তুত করে রেখে দিতে হবে।

বাড়ি চেনান

দেশি কবুতরকে বাড়ি চেনানো কারো কারো কাছে জটিল একটা বিষয় মনে হতে পারে আসলে এটা তেমন জটিল বা কঠিন কাজ না। পাখিদের মধ্যে কবুতর খুব সহজে নিজের ঘর চিনে নিতে পারে। যে খোপে কবুতর পালন করা হবে সেই খোপে কবুতর জোড়া ১০-১২ দিন আটকিয়ে রাখতে হবে। এমনভাবে আটকিয়ে রাখতে হবে যাতে কবুতরগুলো খোপের ভেতর থেকেও সামনের সবকিছু দেখতে পায়।

এ ক্ষেত্রে খোপের সামনে অস্থায়ীেএকটি নেট লাগিয়ে দেওয়া যেতে পারে। নেটের ভেতরে বা খোপের ভেতরে কবুতরের খাবার ও পানি সরবরাহ করতে হবে নিয়মিত।

কেনার পর থেকে ১০-১২ দিন এভাবে রাখলে ইনশাল্লাহ কবুতর ঘর চিনে যাবে। এছাড়াও কবুতর কে ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চেনানো যায়। এতে করে কবুতরের পাখা টেপ বা সুতা দিয়ে বেধে দিতে হয়। তবে পাখা বেধে দিলেেএদের দেখেশুনে রাখা প্রয়োজন। কারণ এরা তখন উড়তে পারেনা বলে বিড়াল, কুকুর বা মুরগি দ্বারা আক্রমণের শিকার হতে পারে।

দেশি কবুতর পালন পদ্ধতি
দেশি কবুতর পালন

দেশি কবুতরের খাবার

দেশি কবুতরের খাবার হিসেবে প্রচলিত খাবারই সরবরাহ করতে হবে। দেশী জাতের কবুতর ধান খেতে খুব পছন্দ করে। ধান, চালের খুদ, গম একত্র মিক্স করে খাওয়ানো যেতে পারে। মাঝে মাঝে জব, কাউন বা সরিষা খাওয়ানো যেতে পারে। বাজারে বিভিন্ন প্রকার পশু-পাখির রেডি ফিড পাওয়া যায়, তবে কবুতরের জন্য কোন রেডি ফিড আমার চোখে পড়েনি। বাজারে যে পোল্ট্রি ফিড পাওয়া যায় সেগুলো কবুতর কে খাওয়ানো উচিত না।

পোষা কবুতরের খাবর অবশ্যই শুঁকনো ও পরিষ্কার হতে হবে। খাবারগুলো রোদে শুকিয়ে রাখতে হবে। খাবারের জন্য আলাদা পাত্র রাখা যেতে পারে। বাজারে ব্রয়লার মুরগির জন্য যে পাত্র পাওয়া যায় সেটাই কবুতরের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

পানির জন্য আলাদা পাত্র কিনে অথবা বানিয়ে নিতে হবে। পানিতে যেন কবুতরের বিষ্ঠা না পরে সেদিকে খেয়াল রেখে পাত্র স্থাপন করতে হবে।

দেশি কবুতরের পরিচর্যা

দেশি কবুতর যদি মাঠে মুক্ত খাবার সংগ্রহের অভ্যাস না থাকে তাহলে অবশ্যই তার খাবারের পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে হবে। খাবার থেকে যাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস বিদ্যমান থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

দেশি কবুতর পালন এর জন্য গোছলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দৈনিক ২ বা আকাসে ওড়ার সুযোগ দিতে হবে। অন্যান্য পশু-পাখি ও মনিুষ থেকে একটু দুরে নিরিবিলি থাকার সুযোগ দিতে হবে। কিছু কিছু কবিতরের মারামারি করা, ডিম ভাঙ্গা, ইত্যাদি বদ অভ্যাস থাকতে পারে এগুলোকে ছাটায় করতে হবে। শুধুমাত্র উৎপাদনশীল কবুতরই খামারে রাখতে হবে।

দেশি কবুতরের রোগ ও চিকিৎসা

দেশি কবুতরের রোগ ও চিকিৎসা ব্যবস্থা। দেশি কবুতরের রোগ বালাই খুব কম। তার পরও প্রতি বছর শিতের শুরুতে ও শেষে রানীক্ষেত বা চুনা পায়খানা রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রচুর কবুতর মারা যায়। আর তাই ভাইরাস ঘটিত এই রোগ থেকে সাবধান থাকতে হবে।

রানীক্ষেত রোগের টিকা সরকারী ও বেসরকারী ভাবে পাওয়া যায়, সেগুলো ভেটেরীনারী ডাক্তারের পরামর্শে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

এছাড়াও দেশি কবুতর পালন করার ক্ষেত্রে কলেরা, বশন্ত, রক্ত আমাশয় ইত্যাদি রোগ দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রেও উপজেলা প্রাণিসাস্থ্য অফিসে যোগাযোগ করে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে।

আরো পড়ুন- ৫ টি কবুতর পালন বই pdf download

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!