লেয়ার ফিড ও এর শ্রেণী বিভাগ

লেয়ার মুরগির লাইটিং

লেয়ার মুরগির বয়স অনুযায়ী খাদ্যের পুষ্টিগুণের তারতম্য হয়ে থাকে। মরগির বয়স অনুযায়ী লেয়ার ফিড কে ৯ টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। সঠিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন লেয়ার ফিড তৈরি করতে একটি ই-বুক আপনাকে সাহায্য করবে। বই টি দেখুন- রিসোর্স এন্ড পাবলিকেশন, প্রাণিসম্পদ ডট কম

  1. লেয়ার স্টার্টার (০-৬ সপ্তাহ)
  2. লেয়ার গ্রোয়ার ১ (৭-১২ সপ্তাহ)
  3. লেয়ার গ্রোয়ার ২ (১৩-১৫ সপ্তাহ)
  4. লেয়ার প্রি-লেয়ার (১৬-১৭ সপ্তাহ)
  5. লেয়ার লেয়ার ১ (১৮-৩৫ সপ্তাহ)
  6. লেয়ার লেয়ার ২ (৩৬-৪৫ সপ্তাহ)
  7. লেয়ার লেয়ার ৩ (৪৬-৬০ সপ্তাহ)
  8. লেয়ার লেয়ার ৪ (৬১-৭০ সপ্তাহ)
  9. লেয়ার লেয়ার ৫ (৭১-১০০ সপ্তাহ)

লেয়ার ফিডের পুষ্টিগুণ

লেয়ার ফিডের পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে খাবারের গুণগত মান আরো বৃদ্ধি করতে ফিড এডিটিভস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন প্রকার ফিড এডিটিভস খাবারে ব্যবহার হয়।

যেমন- টক্সিন বাইন্ডার, পিলেট বাইন্ডার, সালমোনিলা রোগ প্রতিরোধক, কক্সিডিওসিস রোগ প্রতিরোধক, মাইকোপ্লাজমা প্রতিরোধক, এনজাইম, বাফারিং এজেন্ট, এন্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটার, মাইক্রোবিয়াল গ্রোথ প্রোমোটার, লিভার ‍স্টিমুলেটর, ইমালসিফয়ার, এসিডিফায়ার, এন্টিবায়োটিক, ফিড কালার ও ফিড ফ্লেবার সহ আরো অনেক কিছু।

খাদ্যের আকার ও প্রকৃতি অনুযায়ী লেয়ার মুরগির খাদ্য ৩ ধরনের হয়ে থাকে। যথা:

  1. পিলেট খাদ্য
  2. ক্রাম্বল খাদ্য
  3. ম্যাশ খাদ্য

ফিড মিলে যান্ত্রিক উপায়ে খাদ্য উপাদানগুলোকে উত্তম রূপে মিশিয়ে একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় ছোট ছোট বড়ি বা জমাট খন্ডে পরিনত করা করা হয়। এটিকেই পিলেট ফিড বা খাদ্য বলা হয়।

ক্রাম্বল ফিড মূলত বাচ্চা মুরগির জন্য তৈরি করা হয়। এই প্রোক্রিয়ায় পিলেট ফিডকে ভেংগে আরো ছোট টুকারায় পরিনত করা হয় যাতে বাচ্চা মুরগি সহজে খেতে পারে।

ম্যাশ খাদ্য মূলত গুড়া খাদ্য। খাদ্য উপাদানগুলো প্রথমে গুড়া করা হয় এরপর এর সাথে পরিমান মত ফিড সাপ্লিমেন্ট ও ফিড এডিটিভস মিশিয়ে সরাসরি মুরগিকে খেতে দেওয়া হয়।

লেয়ার মুরগির জন্য ম্যাশ খাদ্য খুবই কার্যকরি। এই ধরনের খাদ্য প্রস্তুত করা খুবই সহজ।

আপনারা উপরের তালিকায় নিশ্চয় লেয়ার মুরগির বয়স ভেদে পুষ্টির চাহিদা সম্পর্কে যেনেছেন, লেয়ার ফিডে প্রোটিনের পাশাপাশি প্রচুর এনার্জি থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উপাদান মিশিয়ে এই খাদ্য তৈরি করা হয়। আমরা পরবর্তিতে খাদ্য তৈরির উপাদানগুলোর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে রাখতে চাই তা হলো, আমাদের দেশে অনেক প্রজাতির লেয়ার মুরগি পালন করা হয়। তার মধ্যে হাই-লাইন ব্রাউন, হাই-লাইন হোয়াইট, ইসা ব্রাউন, ইসা হোয়াইট, লেগহর্ন ইত্যাদি অন্যতম। এছারাও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ব্রিডের লেয়ার আমদানি হচ্ছে।

আলাদা আলাদা জাতের জন্য আলাদা আলাদা মাত্রায় পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন হয়। সে জন্য আপনাদের মুরগির বাচ্চার ব্রিড আগে জেনে নেবেন এবং পরবর্তিতে গুগোল থেকে সেই জাতের পুষ্টি চাহিদা সম্পর্কে সম্পূন্ণ জেনে তার পর ফিড ফর্মুলেশন করতে হবে।

এছাড়াও মুরগির বয়স ভেদে ও প্রেডাক্টশন স্তর ভেদে পুষ্টি চাহিদা পরিবর্তিত হয়। তাই সে বিষয় টি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

খামারির সহজলভ্য ও সচারচার ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে একটি আদর্শ লেয়ার ফিড তৈরির তালিকা এখানে প্রকাশ করা হলো।

মুরগির জন্য সাধারণ খাদ্য উপকরণ

মুরগির খাদ্য তৈরিতে প্রধানত দানাশস্য (গম, ভুট্টা ইত্যাদি) ও এসব শস্যের উপজাত (ভুসি, কুড়া ইত্যাদি) ব্যবহার করা হয়। রেশন তৈরির জন্য দানাশস্য হিসেবে প্রধানত গম, ভুট্টা ও ভুসি ব্যবহার করা হয়।

কিন্তু বসতবাড়িতে পারিবারিক মুরগি পালনে যে কোনো শস্যদানা যেমন- ধান, চাল, খুদ, ডাল, সরিষা ইত্যাদি মুৃরগিকে খেতে দেওয়া হয়। খাদ্য উপকরণের পুষ্টিমান, প্রাপ্যতা ও বাজারদর বিবেচনা করে রেশন তৈরির জন্য নির্বাচন করতে হবে। নিচে পুষ্টি উপাদান বিবেচনায় খাদ্য উপকরণের একটি তালিকা দেওয়া হলো:

পুষ্টি উপাদান খাদ্য উপকরণ

  1. শর্করা: গম, ভুট্টা, ধান, চাল, চালের কুড়াঁ, গমের ভুসি ইত্যাদি।
  2. আমিষ: শুঁটকি মাছের গুঁড়া, তিলের খৈল, সরিষার খৈল, সয়াবিন মিল রক্তের গুঁড়া ইত্যাদি।
  3. স্নেহ/চর্বি: বিভিন্ন উদ্ভিজ তৈল যেমন : পাম তৈল, তিলের তৈল, সয়াবিন তৈল ইত্যাদি।
  4. খনিজ পদার্থ: খাদ্য লবণ, ঝিনুক খোসা চূর্ণ, হাঁড়ের গুঁড়া ডিমের খোসা, চুনা পাথর ইত্যাদি
  5. ভিটামিন: শাকসবজি, ভিটামিন-মিনারেল প্রিমিক্স ইত্যাদি।
  6. পানি: পরিষ্কার বিশুদ্ধ (জীবাণুমুক্ত) পানি।

মুরগির প্রয়োজনীয় ঔষধ সমূহ ফিডে ব্যবহার করা যায়। মুরগির ফিড তৈরি করার সময় মুরগির বর্তমান কন্ডিশন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঔষধ খাবারে মিশিয়ে দিলে মুরগির উপর ধকল কম হয়, মুরগি পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি পান করতে পরে। এতে মুরগি পানি বেশি খায় যেটা মুরগিকে দ্রুত শুস্থ হতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন খাদ্য তৈরির ব্যবস্থা থাকলে প্রতিদিনের ঔষধ গুলো খাদ্যে যোগ করা যায়। রেডি ফিডে ঔষধ ব্যবহার করতে খাদ্যের সাথে পুনোরায় ঔষধ মিক্সিং করা বেশ কষ্ট কর।

আরো দেখুনঃ লেয়ার মুরগির খাদ্য খাওয়ানোর নিয়ম

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *