মুরগির ফাউল পক্স (Fowl Pox) বা গুটি বসন্ত রোগ

মুরগির ফাউল পক্স (Fowl Pox) বা গুটি বসন্ত রোগ একটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট মারাত্বক সংক্রামক রোগ। সব বয়সের মোরগ ও মুরগিতে এই রোগ হয়ে থাকে। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে এ রোগের প্রকপ বেশি হয়ে থাকে। বয়সাক মুরগির ক্ষেত্রে ফাউল পক্স বা বসন্ত তেমন মারাত্বক নয়। কিন্তু বাচ্চা মুরগির এরোগ হলে প্রায় শতকরা ৫০-৬০ ভাগ বাচ্চা মারা যায়। দেশী মুরগি, কবুতর ও কোয়েলে গুটি বসন্ত রোগ হয়ে থাকে।

মুরগির ফাউল পক্স বা গুটি বসন্ত রোগ

মুরগির ফাউল পক্স রোগ পরিচিতি

রোগের নামমুরগির ফাউল পক্স (Fowl Pox) বা গুটি বসন্ত রোগ
রোগের ধরণভাইরাল
জীবাণুর নামফাউল পক্স ভাইরাস (fowlpox virus)
সংক্রমণমুরগি, কোয়েল, তিতির, টার্কি, কবিতর
মৃত্যুর হারপ্রাপ্ত বয়স্ক- ৫%, বাচ্চা- ৫০%
সংক্রমন সময়সকল বয়সে
চিকিৎসানাই
মুরগির ফাউল পক্স
চিত্র: ফাউল পক্স ভাইরাস (fowlpox virus)

মুরগির ফাউল পক্স সংক্রমনের মাধ্যম

  1. সুস্থ মুরগি অসুস্থ মুরগির সংস্পর্শে আসলে এ রোগ হতে পারে।
  2. সুস্থ মুরগির মুখমন্ডলে বা ত্বকে কোন ক্ষত বা কাটা জায়গা থাকলে ঐ স্থান দিয়ে ফউল পক্সের জীবাণু প্রবেশ করে।
  3. মশা ও মাছির মাধ্যমে এ রোগ ছড়াতে পারে।
  4. বাতাসের মাধ্যমেও এ রোগ ছড়াতে পারে।

মুরগির গুটি বসন্ত রোগের লক্ষণ

  1. মোরগ-মুরগির ঝুটি, কানের লতি, চোখের পাতায়, পালক বিহীন স্থানে ছোট দানার মত গুটি দেখতে পাওয়া যায়। প্রথমে এ গুঁটিগুলো সাদা, পরবর্তীতে হলুদ এর্ আরো পরে কালচে রং ধারণ করে।
  2. মুরগিকে হাঁ করালে এ ধরনের গুটি আক্রান্ত মুরগির মুখের ভিতরও দেখা যায়।
  3. আক্রান্ত মুরগির শ্বাসকষ্ট হয়।
  4. মুরগির জ্বর হয়।
  5. ডিমপাড়া মুরগির ডিম উৎপাদন কমে যায়।
দেশি মুরগির গুটি বসন্ত

ফাউল পক্স রোগের চিকিৎসা

এই রোগের তেমন কোন চিকিৎসা নেই। আক্রান্ত মুরগি গুলোকে আলাদা করে প্রত্যাহ দুবার স্যাভলন বা ডেটল অথবা পটাশিয়াম পারম্যানগানেট পানিতে গুলে তুলা বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে গুটিগুলো ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন যাতে না হয় সেজন্য টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় ঔষধ পানিতে মিশিয়ে খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যায়। এছাড়াও জ্বর ও ব্যাথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করতে হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও খাদ্য গ্রহণ যাতে স্বাভাবিক থাকে তার জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে।

মুরগির ফাউল পক্স ভ্যাকসিন

মুরগির ফাউল পক্স ভ্যাকসিন কঠিন অবস্থায় বায়ুশুন্য বোতলে সংরক্ষিত থাকে। মুরগির ফাউল পক্স ভ্যাকসিনের রং গোলাপি। বিশুদ্ধ পানিতে পুরাটা মিশিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। ভ্যাকসিন তৈরির পরে কবুতর ও মুরগী যাদের বয়স ২৮-৩২ দিন সেগুলো কে পাখনার নিচে যেখানে পালক থাকে না, সেখানে ৪-৫ টি খোঁচা দিয়ে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হয়।

এই খোচা দেওয়া জায়গাটি যদি ৪-৫ দিনের মধ্যে ফুলে উঠে তাহলে বুঝতে হবে টিকা টি কাজ করছে, আর যদি ফুলে না ওঠে তাহলে বুঝতে হবে টিকা কাজ করেনি। এরকমটি হলে পুনরায় আবার আগের নিয়মে ভ্যাকসিন দিতে হবে। এই রোগের ভ্যাকসিন প্রতি বছর ১ বার দিতে হয়।

মুরগির গুটি বসন্ত রোগ বা ফাউল পক্স রোগটি মোরগ-মুরগির ভাইরাস জনিত একটি রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে মোরগ-মুরগির ঝুটি, কানের লতি, পায়ের বিভিন্ন অংশ এবং পায়ুর চার পার্শ্বে গুটি বসন্তের ফুসকুড়ি দেখা দেয়। মুরগির চোখের চারিপাশে ক্ষত সৃষ্টির ফলে চোখ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই রোগে বাচ্চা মোরগ-মুরগির মৃত্যুর হার বেশি থাকে।

মুরগির ফাউল পক্স সরকারি ভ্যাকসিন

  • মাষ্টার সীড- বোডেট (Buddett) ষ্ট্রেইন (মালয়েশিয়া)
  • ডোজ- প্রতি ভায়াল ২০০ মুরগি
  • প্রতি ভায়াল ফাউল পক্স টিকার দাম- ৪০ টাকা
  • উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে এ রোগের টিকা পাওয়া যায়
মুরগির ফাউল পক্স সরকারি ভ্যাকসিন

টিকা দেওয়ার নিয়ম

প্রথমে ভ্যাকসিন ভায়ালে ৩ এম এল বিশুদ্ধ পানি নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। এই বিশেষ ধরনের টিকা প্রয়োগের জন্য বিশেষ ধরনের সুঁজ বা বিকল্প হিসাবে ইনজেকশনের সুঁচ ব্যবহার করা হয়।

সুঁচের অর্ধাংশ ডুবিয়ে ২৮-৩২ দিন বয়সী মোরগ-মুরগির পাখার নিচে পালকবিহীন চামড়ায় ৪-৫ টি সুঁচ ফুটিয়ে প্রয়োগ করতে হয়। এই ভ্যাকসিন আজীবনের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করতে সক্ষম।

এমন কি মা থেকে মাতৃ এন্টিবডি বাচ্চায় সঞ্চীত হয়। আর তাই এই মুরগির গুটি বসন্ত রোগের টিকা একবার প্রয়োগই যথেষ্ট, পুনরায় প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না।

ফাউল পক্স টিকার দাম

সরকারি ভাবে সরবরাহকৃত প্রতি ভায়াল ফাউল পক্স টিকার দাম ৪০ টাকা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহকৃত এই ভ্যাকসিনের দাম তুলনামুলক অনেক বেশি। সরকারি পক্স ভ্যাকসিন বছরের সব সময় সরবরাহ থাকে না তাই অধিকাংশ খামারি বেশরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন- এসিআই, রেনাটা, এলানকো, এফএনএফ ইত্যাদি প্রতিষ্টানের উপর নির্ভরশীল। উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে এ রোগের টিকা পাওয়া যায়।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা

নিয়োমিত মোরগ-মুরগিকে এ রোগের টিকা বা ভ্যাকসিন দিতে হবে। সময় মত ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। ফাউল পক্স রোগের ভ্যাকসিনের দাম ও মোটামুটি কম। আমাদের দেশের ভ্যাকসিন বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান যেমন- এসিআই এনিমেল হেল্থ, রেনাটা, নোভারটিস ইত্যাদি কোম্পাণির কাছে গুটি বসন্ত রোগের ভ্যাকসিন সরবরাহ আছে।

ফোউল পক্স হলো মুরগি এবং টার্কির একটি বিশ্বব্যাপী ভাইরাল সংক্রমণ। পালকহীন ত্বকে নোডুলার ক্ষত কাটিনাস আকারে সাধারণ। ডিপথেরাইটিক ফর্মে, যা উপরের জিআই এবং শ্বাস প্রশ্বাসের ট্র্যাক্টগুলিকে প্রভাবিত করে, মুখ থেকে খাদ্যনালীতে এবং শ্বাসনালীতে ক্ষত দেখা দেয়।

রোগ নির্ণয় বৈশিষ্ট্যগত স্থূল এবং মাইক্রোস্কোপিক ক্ষত এবং পিসিআর পর্যবেক্ষণ দ্বারা হয়। ভ্যাকসিনেশন রোগ প্রতিরোধ করতে পারে এবং আক্রান্ত পালের মধ্যে সীমা ছড়িয়ে দিতে পারে।

  1. আক্রান্ত ফ্লক থেকে যেন পক্স ভাইরাস না ছড়ায় তার জন্য বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে।
  2. নতুন ফ্লককে সম্পূর্ণরূপে রোগাক্রান্ত মুরগি থেকে আলাদা করতে হবে।
  3. মশা মাছি নিধন করতে হবে।
  4. বহিরাগতর প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।
  5. রেজিস্ট্যার্ড ভেটেরিনারিয়ান এর পরামর্শ মোতাবেক টিকা বা ভ্যাকসিন করাতে হবে।

ফোউল পক্স pdf বই

এই রোগটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিচের pdf বই দুটি সহায়ক হবে-

Fowl Pox in Backyard Flocks

Fowl Pox (Diphtheria)

মুরগির অন্যান্য রোগ

মুরগির মারেক্স রোগমুরগির রানীক্ষেত রোগ
মুরগির বার্ড ফ্লুমুরগির গামবোরো রোগ
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!