মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়

মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়- লেয়ার, ব্রয়লার, দেশি ও সোনালি

লেয়ার, ব্রয়লার, দেশি ও ককরেল/সোনালি মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায় সম্পর্কে মুরগি পালন খামারিদের কিছু ধারনা দিতে চাই। আমরা সকলেই চাই আমাদের লেয়ার, ব্রয়লার, দেশি ও ককরেল/সোনালি মুরগির ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পাক এবং খামার থেকে লাভ আসুক। কিন্তু সেটা আমরা কয়জন করতে পারি বলেন? আর এটি অতান্ত সহজ কোন প্রক্রিয়া নয়। পোলিট্র মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায় জানতে হলে মুরগির এফসিআর (ফিড কনভারশন রেশিও) বোঝাটা জরুরী। যারা মুরগির এফসিআর বোঝেননা তারা লিংকে ক্লিক করে পড়ে আসতে পারেন।

লেয়ার, ব্রয়লার, দেশি ও ককরেল/সোনালি মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনার পূর্বে মুরগির ওজন বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কারনগুলো নিয়ে প্রথমে আলোচনা করা প্রয়োজন। কেননা ভুল করে গাছের গোড়া কেটে দিয়ে পরে সার পানি যতই দেন আর গাছ বড় হবে না। তাহলে আসুন জেনে নেই কি কি কারনে লেয়ার, ব্রয়লার, দেশি ও ককরেল/সোনালি মুরগির ওজন বৃদ্ধিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

মুরগির ওজন বৃদ্ধি না হওয়ার কারন ও করনীয়

লেয়ার, ব্রয়লার, দেশি ও ককরেল/সোনালি মুরগির ওজন সঠিক হারে বৃদ্ধি না হওয়ার কারন ও করনীয় সম্পর্কে নিম্নে আলোকপাত করা হলো।

মুরগির বাচ্চা

মুরগির বাচ্চা ক্রয় করা মুরগি পালন খামারের প্রথম পদক্ষেপ। আমাদের দেশের প্রায় ৫০% উদ্যোক্তা এখানেই ভুল করে পরে ব্যর্থ হয়। আমাদের বুঝতে হবে দেশে ভেজাল পন্যে বাজার ছয়লাভ হয়েগেছে। এখন দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় ও উপজেলায় ছোট বড় হ্যাচারী গড়ে উঠেছে। এসকল হ্যাচারীর অধীকাংশই সঠিক নিয়ম নীতি ও বায়োসিকিউরিটি মেন চলে না। এমন কি ০ দিনের বাচ্চার কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিনেশনের প্রয়োজন হয়, সেগুলোর ব্যবহার হয় না।

আর তাই মুরগির বাচ্চার ডিলারের কথায় প্ররোচিত না হয়ে জেনে বুঝে এক বা একাধিক কোম্পাণির সাথে ব্যবসা করুন। ভালো মানের মুরগির বাচ্চা ক্রয় করুন।

মুরগির খাদ্য

মুরগির খাদ্য মুরগি পালন শুরু করার দ্বিতীয় পদক্ষেপ। এখানেও আমরা প্রচুর ভুল করি। মুরগির বাচ্চা উৎপাদন হ্যাচারির মত খাদ্য উৎপাদন প্রতিষ্ঠানও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা হ্যাচারী করার চেয়ে খাদ্য তৈরি করা অনেক সহজ ও মুনাফার। আর তাই বাজারে প্রচুর ভেজাল খাদ্য দেখতে পাওয়া যায়। খামারিদের এদের থেকে সাবধান হতে হবে। সম্ভব হলে খাদ্য নিজেকেই উৎপাদন করতে হবে। এতে খাদ্যের গুনগত মান যেমন নিশচিত হওয়া যায় তেমন খাদ্য খরচ অনেক কম পড়ে।

মিশকাত এগ্রিকালচার আপনার খাদ্য তৈরির কাজকে সবসময় উৎসাহ ও সহযোগীতা করে। এ বিষয়ে কোন সহযোগীতার প্রয়োজন হলে নির্দিধায় আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়

মুরগির খামার ম্যানেজমেন্ট

তৃতীয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো মুরগির খামার সঠিক নিয়মে পরিচালনা করা। মুরগির খামার পরিচালনা করতে ভুল করলে সব শেষ। নিচে কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করছি।

  1. খাদ্য প্রদানের ১ ঘন্টা থেকে ৩০ মিনিট পূর্বে খাবার ও পানির পাত্র তুলে আনতে হবে।
  2. সেগুলো ভালো ভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার ও জীবানু মুক্ত করতে হবে।
  3. এরপর খাদ্য সহ খাবার পাত্র ও পানির পাত্র প্রদান করতে হবে।
  4. মুরগিকে নিয়মিত বিরতিতে বিভিন্ন পুষ্টি সমৃদ্ধ ঔষধ বা সাপ্লিমেন্ট পানিতে ও খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
  5. নিয়মিত ও সঠিক সময়ে ভ্যাকসিনেশন করতে হবে।
  6. মুরগির রোগ নিয়ন্ত্রনে প্রিভেন্টিভ ডোজ করতে হবে।
  7. মুরগির জন্য আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
  8. মুরগির পানি ২-৪ ঘন্টা পরপর পরিবর্তন করতে হবে।
  9. মুরগির খাদ্য ২৪ ঘন্টায় অন্তত ৪ বার পরিবেশন করা উচিত। এতে খাদ্য ও পানি টাটকা ও ভলো থাবে।

এবার আসুন মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করা যাক।

মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়

মুরগির ওজন বৃদ্ধি তরান্বিত করতে একটি ব্যসিক বিষয় মাথায় রাখতে হবে তা হলো খাদ্যই একমাত্র উপাদান যা মুরগির ওজন বৃদ্ধিতে সরাসরি কাজ করে। খাদ্যে কোন উপাদানের ঘাটতি থাকলে তা ঔষধের মাধ্যমে পানিতে সরবরাহ করলে খরচ বা ব্যায় প্রচুর বেড়ে যাবে। আর তায় মুরগির দৈহিক বৃদ্ধি তরান্বিত করতে সুষম খাদ্য ও পাশাপাশি কিছু ভিটামিন, মিনারেল, গ্রোথ প্রোমোটার ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

ব্রয়লার মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়

ব্রয়লার মুরগির ওজন বৃদ্ধির জন্য ভালো বাচ্চা, ভালো খাবার ও সঠিক ব্যবস্থাপনাই যথেষ্ট। তবে মুরগি যদি খাবার কম খায় সেক্ষেত্রে মুরগির হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি ও খাবার চাহিদা বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। সেক্ষেত্রে এনজাইম, ভিনেগার, এসিডিফায়ার বা পিএইচ, এমাইনো এসিড সমূহ, প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক ইত্যাদি ঔষধ পানিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়াও ব্রয়লার মুরগিকে প্রতি ৩০ দিনে ২ ডোজ লিভার টনিক, ২ ডোজ ক্যালসিয়াম ও জিংক সিরাপ ও ২ ডোজ ভিটামিন মিনারেল ও এমাইনো এসিড সমৃদ্ধ ঔষধ পানিতে খাওয়ানো উচিত। ব্রয়লারের সালমোনেলা রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক বার সালমোনেলোসিস রোগের প্রিভেন্টিভ ডোজ করা যেতে পারে। খামারি এই রোগটিকে গুরুত্ব কম দেয়। অথচ এই রোগটি অধিকাংশ খামারের ব্রয়লারের ওজন কমহওয়ার কারন।

লেয়ার মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়

লেয়ার মুরগি ডিম উৎপাদন ও পরবর্তিতে মাংশ উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। লেয়ার মুরগির ডিম উৎপাদন ও দৈহিক ওজনের সাথে একটি সম্পর্ক রয়েছে। মুরগির ওজন যদি কম হয় তাহলে মুরগি ডিম দেওয়ার হার কম হবে। তাই ডিমে আসার সময় থেকে দৈহিক ওজন গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

লেয়ার মুরগি ডিমে আসার আগে ও পরে প্রতি ৬ মান অন্তর অন্তর ওুরগির ওজন বৃদ্ধির জন্য বাড়তি পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য খাদ্যের সাথে অতিরিক্ত প্রোটিন, তেল, লাইসিন, মিথিওনিন, ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স ও প্রোবায়টিক যোগ করতে হবে। পানিতে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সাপ্লিমেন্ট, জিংক, মাল্টিভিটামিন ও এমায়নো এসিড যোগ করতে হবে।

দেশি ও সোনালি মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়

দেশি ও সোনালি/ককরেল/ফাউমি ইত্যাদি মুরগির ওজন বৃদ্ধির জন্য সুষম খাদ্য, টাটকা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির যে উপয়ের কথা বলা আছে তা অনুসরণ করা যেতে পারে। তবে লি/ককরেল/ফাউমি ইত্যাদি মুরগি কৃমিমুক্ত করার প্রয়োজন পড়ে। আর তাই লি/ককরেল/ফাউমি ইত্যাদি মুরগি কে ৪০ দিন বয়সে কৃমিনাশক ঔষধ যেমন পাইপারজিন/লিভামিসল/আইভাররমকটিন ১% ইত্যাদি।

শেষ কথা

পরিশেষে পাঠককে বলতে চাই ”মুরগির ওজন বৃদ্ধির উপায়- লেয়ার, ব্রয়লার, দেশি ও সোনালি” বিষয়ে লেখায় চেষ্টা করেছি পূর্ণ ধারনা দেবার, যানিনা পারলাম কিনা? একজন খামারি হিসাবে লেখাটি ভালো লাগলে একটাই অনুরোধ লেখাটি ফেসবুকে সেয়ার করুন এবং নিচের কমেন্ট বক্সে মন্তব্য লিখে যানান। আপনার উৎসাহ পেলে এধরনের দিক র্নীদেশনামূলক পোস্ট আরো দেবার চেষ্টা করবো। ধন্যবাদ।

আরো পড়ুন- ৭ টি লেয়ার মুরগি পালন বই pdf ডাউনলোড

Leave a Comment

Your email address will not be published.