মুরগির আফলাটক্সিন রোগ (Aflatoxin)

মুরগির আফলাটক্সিন (Aflatoxin) রোগ। Aspergillus flavus এবং Aspergillus paracytius নামক ফাঙ্গাস সমূহ পোল্ট্রি খাদ্যে এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে যেগুলোকে মুরগির আফলাটক্সিন বলা হয়। সম্মিলিতভাবে এ বিষ বা টক্সিনকে মাইকোটক্সিন বলা হয়। ফাঙ্গাস কর্তিক খাদ্য এবং বিভিন্ন খাদ্য উপাদান হতে পুষ্টি সংগ্রহের সময় বিপাক ক্রিয়ার মাধ্যমে উপজাত হিসেবে মাইক্রোটক্সিন তৈরি হয়।

মাইক্রো টক্সিন সমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এ আফলাটক্সিন যা প্রায়শঃই হাঁস মুরগির জন্য অত্যন্ত ক্ষতি কর। মোটামুটিভাবে চার ধরনের (বি১, বি২, জি১, জি২) আফলাটক্সিন এর মধ্যে বি২ পোল্টির জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক। আমাদের দেশে গরম এবং আর্দ্রতা জনিত আবহাওয়ার কারণে এর প্রকোপ অত্যন্ত বেশি এবং বিশেষভাবে হাঁস-মুরগি উৎপাদনে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে।

ডিম পাড়া মুরগির চেয়ে ব্রয়লার মুরগির আফলাটক্সিন প্রতি অধিক সংবেদনশীল। আমাদের দেশে ব্রয়লারের খাদ্যের ক্ষেত্রে মুরগির আফলাটক্সিন গ্রহণযোগ্য মাত্রা দুই কোটি ভাগের এক ভাগ এবং ডিম পাড়া মুরগির ক্ষেত্রে এক কোটি ভাগের এক ভাগ এর বেশি হওয়া উচিত নয়।

মুরগির আফলাটক্সিন রোগ

পোল্ট্রির ক্ষেত্রে আফলাটক্সিন এর ক্ষতিকারক দিক

  1. ডিম উৎপাদন এবং ডিমের ওজন কমে যায়।
  2. খাদ্য গ্রহণে অনীহা তৈরি হয় এতে দৈহিক বৃদ্ধি কমে যায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমিত হয়ে থাকে।
  3. শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে প্রাণ বাধাগ্রস্ত করার ফলে বিভিন্ন রোগের প্রতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
  4. খাদ্য হতে পুষ্টির ব্যবহার কমে যায় এবং খাদ্যকে মাংস ডিম ডিমের রূপান্তরের ক্ষমতা কমে যায়।
  5. মুরগির রক্তশূন্যতার লক্ষণ দেখা দেয়।
  6. অধিকমাত্রায় পায়ের সমস্যা বৃদ্ধি পায়।

রোগ ছড়ানোর মধ্যিম

  1. পোল্ট্রিতে মাইক্রো টক্সিন দিয়ে দূষিত খাদ্য খাওয়ার মাধ্যমে।
  2. খাদ্য ভেজা দুর্গন্ধ হলে এ ধরনের হয়ে থাকে।

মুরগির আফলাটক্সিন রোগের লক্ষণ

  • ডিম উৎপাদন হ্রাস পায়।
  • খাদ্যের প্রতি অনীহা দেখা যায়।
  • ডিমের খোসা পাতলা হয়ে যায় ডিমে রক্তের দাগ দেখা যায়।
  • দৈহিক বৃদ্ধি ঠিকমতো হয়না এবং বাচ্চা মুরগির ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার বেড়ে যায়।
  • বিটু খেয়ে উঠে ঘা হয় খাদ্য না খাওয়ার ফলে আক্রান্ত পাখি শুকিয়ে যায়।
  • খাদ্যে ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে লক্ষণগুলো অতি তাড়াতাড়ি দেখা যায় এবং ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।

মুরগির আফলাটক্সিন রোগ শনাক্ত ও পরিমাণ করার পদ্ধতি 

অনেক ধরনের ব্যবহারিক পদ্ধতি আছে যেগুলো দিয়ে তৈরি উপাদানে মুরগির আফলাটক্সিন রোগ উপস্থিতি এবং মাত্রা পরিমাপ করা যায়। নিচে পদ্ধতি গুলোর নাম দেওয়া হলো-

  1. থিনলেয়ার ক্রোমাটোগ্রাফি (LTC) পদ্ধতি।
  2. আফলাটক্সিনোমিটার (Flurotoxin meter) পদ্ধতি।
  3. হাইপারফরম্যান্স লিকুইড ক্রোমাটোগ্রাফি (HPLC) পদ্ধতি।
  4. এনজাইম লিংকড ইমমিউনো সরবেন্ট এছে (ELISA) পদ্ধতি।

উপরের পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য হচ্ছে এইচ পি এল সি (HPLC) ও ই এল আই এস এ (ELISA) পদ্ধতি। কিন্তু এইচপিএলসি যন্ত্রপাতির অত্যন্ত দামি হয় খরচ খুব বেশি অপরদিকে ই এল আই এস এ (ELISA) পদ্ধতি মুরগির আফলাটক্সিন পরীক্ষা করা খুব সহজ খুবই কম সময়ে নির্ভুলভাবে তুলনামূলক কম খরচে পরীক্ষা করা যায়।

মুরগির আফলাটক্সিন প্রতিরোধ ব্যবস্থা

  1. পরিপক্ক এবং উৎস গুণসম্পন্ন শস্যকণা পোল্ট্রি খাদ্যে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
  2. পোল্ট্রি খাদ্যে জলীয় অংশের মাত্রা 12% এর বেশি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
  3. পোল্ট্রির জন্য যদি নিম্ন মানসম্পন্ন খাদ্য ব্যবহার করতেই হয় তবে অবশ্যই ওই খাদ্যে টক্সিন বাইন্ডার এবং ইনহিবিটর ব্যবহার করতে হবে।
  4. নষ্ট হয়ে যাওয়া বা জমে যাওয়া খাদ্য খাওয়ানো যাবে না।
  5. খাদ্য অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবেনা।
  6. খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।
  7. খাদ্য প্রস্তুতকারীদের অবশ্যই সাইরি নতে খাদ্য উৎপাদন সংরক্ষণ করতে হবে।
  8. খাদ্যে ভেজাল খাদ্যে ভেজাল অবস্থায় না থাকে তার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
  9. খাদ্যের যেন ছত্রাক না জন্মায় এরূপ ঔষধ নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।
  10. সর্বদা যথাযথ স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

আরো পড়ুন- মুরগির ফাইল কলেরা রোগ

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!