পানির pH ও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ

পানির pH বায়েফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে একটি গুরূত্বপূর্ণ বিষয়। পানির pH ঠিক না থাকলে মাছের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বায়োফ্লকের পিএইচ এর সাথে এলকায়লিটি ও টিডিএস এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষে পানির পিএইচ সঠিক মাত্রায় বজায় রাখতে হবে।

পানির pH

পানির pH

পানি একটি মৃদু তড়িৎবাহী পদার্থ। পানির মধ্য দিয়ে মৃদু বিদ্যুৎপ্রবাহে সুবিধা হয়। সেই রকম মৃদু বিদ্যুৎ বা তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ। এই কারণে এর কিছু অংশ বিয়োজিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও হাইড্রোক্সিল অ্যানয়ন (OH-) তৈরি হয়ে থাকে। পানিকে এই হাইড্রোজেন আয়ন ও হাইড্রোক্সিল অ্যানায়নের গাঢ়ত্বই হল তার ঐ সময়ের পিএইচ।

এই গাঢ়ত্ব প্রকাশ করা হয় পি এইচ দ্বারা। কোনও পদার্থের পিএইচ ৭ মানে ঐ পদার্থের হাইড্রোজেন ও হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনত্ব বা গাঢ়ত্ব সমান।

এই অবস্থায় পানিতে অম্ল বা ক্ষারক নয়। যখন এই গাঢ়ত্ব ৭-এর কম হয় তখন সেই পদার্থকে অম্ল ভাবাপন্ন এবং ৭-এর বেশি হলে তাকে ক্ষারকীয় বলে। পানির পিএইচ সাধারণত ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

পানির pH মাপার পদ্ধতি

রসায়নাগারে পানি নিয়ে গিয়ে পানির pH মিটারের ইলেকট্রোডের সাহায্যে ঐ পানির পিএইচ নির্ণয় করা যায়। নিজেই পিএইচ মিটার কিনে পরীক্ষা করা যায়। এ ছাড়া পুলের পাশে দাঁড়িয়ে  ঐ পুরের পানির পিএইচ নির্ণয় করার প্রয়োজন হলে পিএইচ পেপার ব্যবহার করে ঐ পানির পিএইচ নির্ণয় করা যেতে পারে।

এই পেপার পানিতে ডোবালে পানির পিএইচ এর মান অনুযায়ী তার রঙ পরিবর্তন হয়। এই বার ঐ পেপারের পরিবর্তিত রঙ নির্দিষ্ট চার্টের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পানির পিএইচ বের করা হয়। অর্থাৎ ঐ চার্টের বিভিন্ন রঙের সঙ্গে পিএইচ মান নির্দিষ্ট করা থাকে।

পানির পিএইচ মান সারা দিনে দু’ বার নেওয়া দরকার। এক বার সকালে সূর্যোদয়ের আগে ও এক বার বিকালে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে।

পানির pHকমার কারণ

  1. পুকুরের অব্যবহৃত বা অতিরিক্ত খাদ্য ও জৈব পদার্থ অ্যান অ্যারোবিক (Anaerobic) ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা ভেঙ্গে জৈব এসিড তৈরি হলে পিএইচ কমে যায়।
  2. পুকুরের মাটি এসিডিক হলে অথবা পুকুরের তলায় হাইড্রোজেন গ্যাস জমা হলে।
  3. বৃষ্টি বা জলাশয়ের আশেপাশের ধৌত হয়ে আসা খনিজ এসিড বা সালফিউরিক এসিড পানিতে পড়লে পিএইচ কমে যায়।
  4. পানিতে সার প্রয়োগ করে বা অধিক খাদ্য প্রয়োগ করে পানির ফাটোপ্লাংক্টন তৈরি করলে পানির পিএইচ বেড়ে যাবে।

পানির pH কেন বৃদ্ধি পায়

  1. অতিরিক্ত খাদ্যের পচনের ফলে।
  2. প্ল্যাঙ্কটন ব্লুম হয়ে তা পচে গিয়ে।
  3. মাছের মল বা জৈব অংশের পচন।
  4. ক্ষার জাতীয় পদার্থের মাত্রাধিক ব্যাবহার।
  5. অ্যামোনিয়া, নাইট্রেট, নাইট্রাইট গ্যাসজনিত কারণ।
  6. পানির তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রীর নিচে নেমে গেলে।
  7. পানিতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বেশি সার প্রয়োগ করলে।

Caco3/চুন কি

পাথুরে চুন (Limestone) – CaCo3 ৪০% ক্যালসিয়াম। চুন হল ক্যালসিয়াম যুক্ত একটি রাসায়নিক যৌগ, যার মধ্যে কার্বনেটসমূহ, অক্সাইডসমূহ ও হাইড্রোক্সাইডসমূহের প্রাধান্য রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের চুন পাওয়া যায়, যেমন: পাথুরে চুন, কলি চুন, পোড়া চুন ইত্যাদি। চুনকে সাধারনত: lime বা limestone বলা হয়।

বায়োফ্লক পানির pH কেন উঠানামা করে

আপনার বায়োফ্লক যদি outdoor এ হয় মানে সূর্যের আলো পড়ে ট্যাঙ্কের মধ্যে, তাহলে photosynthesis এবং respiration এর জন্য pH উঠানামা করে।  Indoor বায়োফ্লক এ প্রধানত মাছের মেটাবলিক একটিভিটি এর কারণে পানিতে অ্যাসিড বেড়ে যায় তাই pH কমতে থাকে  এবং নাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ার কারণেও pH কমে, কারণ হেটেরোট্রফিক এবং নাইট্রিফায়িং ব্যাকটেরিয়া উভয়েই আলকালিনিটি গ্রহণ করে।

পানির pH উঠানামা করলে কি ক্ষতি হয়

pH যদি অল্প সময়ে বেশি উঠানামা করে তাহলে মাছের pH শক হওয়ার সম্ভবনা থাকে।  pH শক হলে অনেক মাছ খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং মারা যায়।  আর pH যদি সহনীয় মাত্রায় না থাকে (7.0 থেকে 8.5) তাহলে মাছের অনেক ক্ষতি হয়।

বায়োফ্লক এ পানির pH কত রাখলে সবচেয়ে ভালো

মাছ চাষের উপযোগী পিএইচ ৭-এর উপরে অর্থাৎ পুকুরের/ট্যাঙ্কের পানি একটু ক্ষার ভাবাপন্ন হওয়া উচিত। অতিরিক্ত ক্ষার বা অতিরিক্ত অম্ল পানিতে মাছ চাষ ভালো হয় না।

মাছের বংশ বিস্তার, জীবনধারণ ও বৃদ্ধি ভালো হয় না। তাই লাভজনকও নয়। পানিতে পিএইচ এর মান ১১-এর বেশি হলে মাছ মারা যেতে পারে। আবার পিএইচ-এর মান ৪-এর কম হলে মাছের খাদ্যগ্রহণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। সহজেই রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ে। মাছ চাষের ক্ষেত্রে পানির পিএইচ-এর মান ৭.৫ থেকে ৮.৫-এর মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

পানির pH এর সাথে আমোনিয়ার কি সম্পর্ক

PH কমলে NH3 কমে এবং NH4 বারে শিতের দিনে। PH বারলে NH3 বারে NH4 কমে গরমের দিনে।
আমরা বায়োফ্লক এ TAN পরিমাপ করে বলি অ্যামোনিয়া ২ বা ৪ বা ১।  কিন্তু TAN টা কি? TAN এর পুরো অর্থ Total Ammonia Nitrogen. NH3 এবং NH4+ এই দুইটা মিলে হয় TAN.  NH4+ মাছের জন্য ক্ষতিকর নয় শুধু NH3 মাছের জন্য ক্ষতিকর।

Alkalinity (KH) কি

Alkalinity (KH) হলো পানিকে বাফারিং ক্যাপাসিটি।  অ্যাসিড কে নিউট্রালাইজ করে pH ধরে রাখার ক্ষমতাই আলকালিনিটি।
আরো সহজ কোরে বলি।

অ্যালকালিনিটির আরেক নাম ব্যাসিসিটি (basicity)। এটাকে কার্বনেট হার্ডনেসও (KH) বলা হয়। পানিতে দ্রুবীভূত ক্ষারীয় খনিজসমূহের মোট ঘনত্বই হচ্ছে অ্যালকালিনিটি। অ্যালকালিনিটি হল পানির সামর্থের একটা পরিমাপ যা পানিতে এসিডকে নিরপেক্ষ করে। আরেক কথায় বলা যায়, অ্যালকালিনিটি হল পানির ক্ষমতা যা পানিতে পিএইচ উঠা-নামাকে প্রতিরোধ করে।

তার মানে এটা বলা যায় পিএইচ স্থিতিশীল রাখাকে এক কথায় অ্যালকালিনিটি বলে। সাধারনত: পানিতে OH-(Hydroxide), অথবা CO3-(Carbonate) অথবা HCO3- (Bicarbonate) আয়ন উপস্থিত থাকলেই জল অ্যালকালিন হয়। মানে এই তিনটি আয়নের যেকোন ১টি আয়ন, বা ২টি আয়ন বা ৩টি আয়ন পানিতে বিদ্যমান থাকতে পারে।

মাছ চাষে পানিতে ক্ষারত্ব বা অ্যালকালিনিটির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই প্রতি লিটার পানিতে অ্যালকালিনিটির পরিমাণ ২০মিলিগ্রাম/লিটার (২০ পিপিএম) থেকে ২০০ মিলিগ্রামের(অর্থাৎ ২০০ পিপিএম) মধ্যে হওয়া দরকার।

পানির pH এর সাথে আলকালিনিটির কি সম্পর্ক

pH এর সাথে আলকালিনিটি (Alkalinity – KH ) ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  বায়োফ্লক এ pH খুব বেশি ওঠানামা করে তাই আলকালিনিটি টেস্ট করে আলকালিনিটি মেইনটেইন করা জরুরি।

কেন আলকালিনিটি চেক করা জরুরি

যদি পানিতে সঠিক পরিমান আলকালিনিটি বজায় না রাখেন তাহলে pH উঠানামা করবে এবং বায়োফ্লক এ সফল হওয়া যাবে না।  তাই পানির আলকালিনিটি অন্তত সপ্তাহে একবার চেক করা দরকার এবং আলকালিনিটি বজায় রাখতে CaCo3/ডলোমাইট দেওয়া জরুরি।  কিভাবে কতটুকু CaCo3 দিবেন  এবং কত আলকালিনিটি বজায় রাখতে হবে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। 

বায়োফ্লক এ পানির pH কিভাবে কন্ট্রোল এ রাখবেন

pH কন্ট্রোল করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো Alkalinity (KH) আলকালিনিটি বজায় রাখা।  মাছের জন্য সবচেয়ে ভালো আলকালিনিটি 75 ppm থেকে 175 ppm।  কিন্তু আলকালিনিটি এই রেঞ্জ এ বজায় রাখতে হলে প্রতি সপ্তাহে একদিন আলকালিটি চেক করবেন আলকালিনিটি টেস্ট কিট দিয়ে এবং পরিমাণমতো CaCo3/ডলোমাইট দিবেন।  আলকালিনিটি 100 theke 150 এর ভিতরে রাখবেন।  100 এর নিচে হলে CaCo3 দিবেন।  কতটুকু CaCo3 দিবেন সেটা এভাবে নিম্নের ফর্মুলা দিয়ে বের করবেন

ধরুন আপনার আলকালিনিটি আছে ৫০
আপনি সেটাকে ১৫০ করতে চাচ্ছেন
আপনার ট্যাঁক এ জল আছে ১০০০০ লিটার

★তাহলে সূত্র হলো  (কত আলকালিটি করবেন – কত আলকালিনিটি আছে) X টোটাল জল X ০.০০১  = CaCo3 গ্রাম দিবেন

অর্থাৎ
(১৫০-৫০) X ১০০০০ X ০.০০১  = ১০০০ গ্রাম CaCo3

*CaCo3 কেনার সময় অবশ্যই ভালো মানের পিওর CaCo3 কিনবেন তা না হলে কিন্তু এই সূত্র কাজ করবে না আর pH ও কন্ট্রোল হবে না। আর সর্বোপরি এই সমস্ত  জলের প্যারামিটার সঠিক ভাবে স্থিতিশীল রাখতে Humifloc ট্যাংকে অবশ্যই ব্যবহার করবেন। নচেৎ আশানুরূপ ফল পাবেন না।

পানির pH বারলে বা কোমলে করনিয়

পানির pH বারানোর জন্য করনিয়

CaCo3 ট্যাংকিতে দেয়ার নিয়ম ২০০ গ্রাম সর্বচ্চ্য পাথর চুন গুলিয়ে উপরের পানি ট্যাংকে দিতে হবে এবং ১ বার দেয়ার পর মিনিমাম ২ ঘন্টা পর দেয়া যায় বা দিনে ১ বার দিলে ভালো হয়। প্রতিবার চুন প্রয়োগ করে তার ২/৩ দিন পর পিএইচ পরিমাপ করতে হবে। পিএইচ কাঙ্খিত মাত্রায় না পৌছানো পর্যন্ত চুন আরও প্রয়োগ করতে হবে।

পানির pHকমানোর জন্য যা করনিয়

পানিতে PH কমানোর জন্য তেতুল ব্যাবহারের কথা বলা হোয়েছে। তেতুল ২৫০ গ্রাম ভালো-ভাবে পানিতে গুলিয়ে কাপর দিয়ে পরিস্কার পানি ছেকে ট্যাংকিতে দিতে হবে। ২ ঘন্টা পর PH মাপতে হবে। কাংক্ষিত মাত্রা না আশা পর্যন্ত মিনিমাম ৩ ঘন্টা পর আবার

তেতুল পানি দিতে পারেন দুপুর বেলায়। তবে দিনে ১ বার দিলে ভালো হয়। PH বারানোর জন্য যা করনিয়ঃ–পানিতে চুন দিতে হবে(CaCo3) পাথর চুন।

শিতে ও গরমে বায়োফ্লক মাছচাষে পানির pH কি প্রভাব ফেলে

শিতের সময় PH সাধারনত কম থাকে DO বেশি থাকে তাপ মাত্রার জন্য । যার কারনে NH3 কম থাকে। তবে মাত্রা অতিরিক্ত কোমেগেলে।মাছ মারা জেতে পারে খুব খেয়াল রাখতে হবে।

PH & Temp কি সমর্পক

Temp বারলে PH বারে গরমে এবং Temp কমলে PH কমে শিতে।
pH এবং টেম্পারেচার এর উপর নির্ভর করে NH3 এবং NH4+ এর অনুপাত।  pH বেশি হলে NH3 বেশি হয় এবং মাছের ক্ষতি হয় বেশি।  কিন্তু pH কম হলে NH3 কম হয় সমপরিমাণ TAN এর জন্য।

PH & DO কি সমর্পক

DO & PH এর মধ্যে গভির সম্পর্ক রোয়েছে।
সাধারনত দিনের বেলায় PH & DO উঠানামা করে
PH কমলে DO বারে এবং PH বারলে DO কমে।

বায়োফ্লোক চাষের জন্য পানির pH এর গুরুত্ব

বায়োফ্লোক চাষের জন্য পিএইচ pH সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার। বায়োফ্লোক চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো পিএইচ মাত্রা হ’ল 7.4 থেকে 8.0 এর মধ্যে।  হঠাৎ করে যদি পিএইচ ওঠানামা করে তাহলে মাছের উপর প্রচুর ধকল যায় এবং এটা মাছ  মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। পিএইচ শক মাছের প্রচুর স্ট্রেস দেয় এবং মাছ কয়েক দিনের জন্য খাওয়া বন্ধ করে দেয়, ফলস্বরূপ তাদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। সুতরাং নিয়মিতভাবে পানিতে পিএইচ সঠিক পরিমাপ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

নিয়মিত ব্যবহারের জন্য ইলেকট্রনিক পানির pH মিটার এবং পিএইচ পরীক্ষার তরল কিটটি ব্যবহার করে সপ্তাহে কমপক্ষে একবার pH  চেক করা উচিত। ইলেকট্রনিক মিটারটি যাচাই করার জন্য আমরা সপ্তাহে একবার পিএইচ পরীক্ষার তরল কিটের সাথে ডাবল চেক করা উচিত।

আসুন পিএইচ টেস্ট লিকুইড কিট সম্পর্কে কথা বলি। আমাদের ট্যাঙ্কের জলে কি পরিমান পিএইচ রয়েছে তার উপর নির্ভর করে আমাদের কম পরিসীমা এবং উচ্চ পরিসরের পিএইচ পরীক্ষার তরল উভয়ই ব্যবহার করতে হবে। তাই আমাদের দুটি পৃথক পরীক্ষার তরল কিট, একটি স্বল্প পরিসরের পিএইচ এবং একটি উচ্চতর পরিসরের পিএইচ কীটের জন্য বিনিয়োগ করতে হবে।

এখন পানির pH ইলেকট্রনিক মিটার সম্পর্কে কথা বলা যাক। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভিন্ন মূল্যের জন্য পিএইচ মিটার কিনতে পারবেন। তবে সস্তা মিটার সঠিক মেজারমেন্ট দেয় না এবং ক্যালিব্রেট করা খুব কঠিন এবং কিছু ক্ষেত্রে এই সস্তা মিটারগুলির ক্যালিব্রেট করা অসম্ভব। এছাড়াও পিএইচ মিটারে খুব সংবেদনশীল গ্লাস বাল্ব সেন্সর রয়েছে। সেন্সরটি ভাল না হলে দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

পিএইচ মিটার সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ’ল এগুলির রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত নিয়মমাফিক করতে হয়। সাধারণত আমরা মিটার কিনে পানিতে পিএইচ পরিমাপ করতে থাকি তবে আমরা এর জন্য কোনও রক্ষণাবেক্ষণ করি না। পিএইচ মিটার কেনার সময় আমাদের কয়েকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখতে হবে। প্রথমে ভাল মানের ওয়াটারপ্রুফ  পি এইচ মিটারে বিনিয়োগ করুন।

এই ক্ষেত্রে কার্পণ্যতা একেবারেই করবেন না। কারণ আমরা প্রায় প্রতিদিন এটি দিয়ে পানির pH চেক করব। এটি জলরোধী হওয়া দরকার। এছাড়াও এটিতে গ্লাস বাল্ব সেন্সর রয়েছে যা মিটারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই বাল্বটিকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য আমাদের এমন ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে করে এটি ফেলে দিলেও না ভেঙে যায়।

দ্বিতীয়ত, আমাদের একটি পিএইচ মিটার স্টোরেজ সল্যুশন সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ এই গ্লাস বাল্ব সেন্সরগুলি শুকিয়ে গেলে আস্তে আস্তে কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

তৃতীয়ত, আমাদের পিএইচ 7 বাফার সল্যুশন দিয়ে প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার ক্যালিব্রেট করা দরকার যাতে পিএইচ মিটার সময়ের সাথে সাথে ক্যালিব্রেশন হারাতে না পারে এবং সঠিকভাবে পরিমাপ দিতে থাকে।  পিএইচ 4 বাফার দ্রবণ দিয়ে ক্যালিব্রেট করার দরকার নেই। কারণ আমরা খুব কম পিএইচ মানগুলি পরিমাপ করব না বায়োফ্লক এ।  কেবল পিএইচ 7 বাফার সলিউশন ক্যালিব্রেশনই যথেষ্ট।

এছাড়াও একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন – আপনার পিএইচ মিটার সেন্সরকে  ডিস্টিলড ওয়াটার বা ব্যাটারীর জলে কখনও ধোবেন না কারণ এটি গ্লাস বাল্ব সেন্সরের ক্ষতি করে। মিটার প্রোবটি পরিষ্কার করার জন্য নরমাল কলের পানিতে ধুয়ে ঝাকিয়ে জল ফেলে  স্টোরেজ সল্যুশন এ রেখে দিবেন। 

আপনি যদি উপরের নির্দেশিকাগুলি অনুসরণ করেন তবে আপনার পিএইচ মিটারটি বহু বছরের জন্য স্থায়ী হবে এবং প্রতিবার সঠিক মাপ সরবরাহ করবে এবং আপনার মাছকে পিএইচ শক সম্পর্কিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাবে।

আশা করি এই প্রতিবেদনটি  আপনাকে পিএইচ মিটারের ব্যবহার এবং কীভাবে আপনার পিএইচ মিটারের যত্ন নিতে হবে এবং বায়োফ্লোক চাষে সফল হতে কিছুটা সহায়তা করবে। মনে রাখবেন বায়োফ্লোক হ’ল জলের গুণমান পরিচালনার বৈজ্ঞানিক উপায়। ভাল মানের পানি পরীক্ষার মিটার এবং কিটগুলি ছাড়া ভাল পানিতে মান বজায় রাখা সম্ভব নয়। যদি আমরা পানিতে ভাল গুণমান বজায় রাখতে না পারেন তবে উচ্চ ঘনত্বের মাছ চাষে সফল হতে পারবেন না।

লেখক পরিচিতি

জুয়েল রানা

জুয়েল রানা

বায়োফ্লক মৎস্য খামারি, কুষ্টিয়া।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

1 thought on “পানির pH ও বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ”

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!