তিতির পাখি

তিতির পাখি আমাদের দেশে বিদেশি গিনি ফাউল ও চিনা মুরগি নামে পরিচিত। এদেশে তিতির পাখি (francolin) একটি সৌখিন পাখি বা মুরগি হিসেবে অনেকে প্রতিপালন করে থাকে। এ দেশের সৌখিন লোকেরা খাঁচায় তিতির পালন করে। বাণিজ্যিকভাবে তিতির খামার এদেশে এখনো গড়ে ওঠেনি। তিতির পাখির বৈজ্ঞানিক নাম হল Numida meleagrisz

শোভাবর্ধক পাখি হিসেবে তিতির পাখি বেশ জনপ্রিয়। এদের আদি বাসস্থান আফ্রিকা মহাদেশ। আমাদের দেশে পাহাড়ি এলাকায় প্রচুর পরিমাণে তিতির দেখা যায়।

তিতির পাখি

তিতির পাখির প্রজাতি

এরা বন্য প্রকৃতির। সাধারণত এদের তিনটি প্রজাতি রয়েছে।

  • পার্ল প্রজাতি- পালক ধূসরের উপর সাদাটে ফোটাযুক্ত।
  • সাদা প্রজাতি- পালক দেখতে সাদা বর্ণের হয়।
  • ল্যাভেন্ডার- পালক বাদামী বর্ণের হয়।

আকৃতি ও ওজন

এ তিন প্রজাতির মধ্যে পার্ল প্রজাতি সবচেয়ে জনপ্রিয়। অল্পবয়স্ক তিতিরের মাংস নরম এবং অন্যান্য বন্য পাখি যেমন ঘুঘু, ডাহুক ইত্যাদি অপেক্ষা এদের মাংসে সুন্দর গন্ধ পাওয়া যায়। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ তিতির এর গড় ওজন- 1.7 থেকে 1.8 কেজি, পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী তিতির এর গড় ওজন- 2.2 থেকে 2.3 কেজি।

ল্যাভেন্ডার তিতিরের পালক পার্ল প্রজাতির মতই তবে এদের পালক বাদামি হয় এবং বাদামি পালকের উপর নিয়মিত সাদা সাদা দাগ থাকে। প্রায় দুই মাস বয়সের তিতির অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

ছোট তিতিরের পালক প্রাথমিক অবস্থায় বাদামী রং এর থাকে। পরবর্তীতে পালক ধূসরের উপর ফোটা যুক্ত হয়।

ডিম উৎপাদন

তিতির সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে অর্থাৎ ঋতুভিত্তিক ডিম পাড়ে। তিতির বাংলাদেশের আবহাওয়ায় সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ডিম পাড়ে। ঋতুভিত্তিক 7 থেকে 8 মাস বয়সে সর্বপ্রথম ডিম পাড়া শুরু করে। প্রতিটি ডিমের ওজন 40 থেকে 45 গ্রাম। বছরে গড়ে 100 থেকে 110 টি ডিম দেয়। গরমের দিনে তিতির 17 থেকে 20 দিন পর্যন্ত স্বাভাবিক থাকে। ডিমের খোসা শক্ত হয়।

তিতির পাখি চিনা
পার্ল প্রজাতির তিতির

তিতির পালন পদ্ধতি

তিতির পাখি সাধারণত তারের খাঁচায় এবং মুক্ত অবস্থায় প্রতিপালন করা যায়। মেঝেতে প্রতিটি তিতিরের জন্য 0.27 থেকে 0.30 বর্গমিটার, মাচায় 0.18 থেকে 0.22 বর্গমিটার এবং খাঁচায় 0.045 থেকে 0.050 বর্গমিটার জায়গার প্রয়োজন হয়।

প্রজনন

তিতির পাখির যখন প্রজননের সময় হয় অর্থাৎ ডিম পাড়ার সময় স্ত্রী পুরুষটির সাথে জোড়া গঠন করে এবং উপযুক্ত বাসার খোঁজ করে। পুরো ডিমপাড়া ঋতুতে সাধারণত পরিস্থিতির সাথে একত্রে চলাফেরা করে। তবে নিবিড় প্রজাতিতে পালন করার সময় এদের জোড়া করে রাখার তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। আবদ্ধ অবস্থায় থাকলে জোর মিটিং এর প্রবণতা অনেকাংশে কমে যায়। এক্ষেত্রে তিন থেকে চারটি স্ত্রীর জন্য একটি পুরুষ তিতির যথেষ্ট।

ডিম ফোটানো

তিতিরের নিষিক্ত ডিম ফোটানোর সময় প্রাকৃতিক ভাবে বা কৃত্রিম উপায়ে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া যায়। ডিম ফোটানোর যন্ত্রে উপযুক্ত তাপমাত্রা 28 দিনে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। একটি দেশি মুরগির সাহায়্যে প্রাকৃতিক উপায়ে 10 থেকে 12 টি ডিম একসাথে ফোটানো সম্ভব।

চরিত্র বা স্বভাব

তিথির কে যদি খাঁচায় বা আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা হয় তবে তিতির ভীষণ যন্ত্রণা এবং সার্বক্ষণিক ডাকাডাকি করতে দেখা যায়। কিন্তু ছাড়া অবস্থায় তিতির বেশ শান্ত এবং ধীর স্থির প্রকৃতির হয়। তবে এক জায়গায় সর্বক্ষণ অবস্থান করে না।

তিতিরের খাদ্য ও পুষ্টি

পূর্ণবয়স্ক প্রতিটি তিতির পাখির দৈনিক গড়ে 110 থেকে 120 গ্রাম খাদ্য খায়। বাচ্চা অবস্থায় অবস্থায় এবং পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় তিতিরের সুষম খাদ্যে অপরিশোধিত প্রোটিন যথাক্রমে 19% এবং 18% থাকা বাঞ্ছনীয় এবং বিপাকীয় শক্তি 2900 এবং 2800 কিলোক্যালরি প্রতি কেজিতে থাকা দরকার।

তিতির পাখির রোগ

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান পোল্ট্রি উৎপাদন গবেষণা বিভাগের পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, তিতিরের তেমন কোন রোগ বালাই নেই। শুধু বাচ্চা ফোটার প্রথম দুই সপ্তাহ ভালোভাবে পরিচর্যা করলে পরবর্তীতে মৃত্যুর হার নেই বললেই চলে। আবার বিদেশে অনেক গবেষক মনে করেন যে মুরগির মত সকল প্রতিষেধক টিকা তিতিরকে দেওয়া উচিত।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!