ডিমপাড়া মুরগি পালন ও অধীক ডিমপাড়া মুরগির বৈশিষ্ট্য

ডিমপাড়া মুরগি পালন ও অধীক ডিমপাড়া মুরগির বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন কারণে মুরগি পালন করা হলেও একটি প্রধান কারণ হচ্ছে ডিম উৎপাদন করা। কে না সকালের নাস্তায় ডিম খেতে পছন্দ করে বলুন? যখন আমরা কোনো ডিম পাড়া জাতের মুরগি ক্রয় করবো তখন প্রথমেই জানতে হবে অধীক ডিমপাড়া মুরগির বৈশিষ্ট্য কি কি। অধীক ডিম পাড়া মুরগি কেই সাধারনত লেয়ার মুরগি বলা হয়।

ডিমপাড়া মুরগি পালন। অনেক সময় দেখা যায় ভালমানের খাদ্য, পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল বা খনিজ উপাদান প্রদান করার পরও দেখা যায় ডিমের উৎপাদন কম হয়। সাধারণত ডিম উৎপাদনের জন্য লেয়ার তথা ডিমপাড়া মুরগির ১৪-১৬ ঘন্টা আলোর ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হয়।

কেননা এই আলোতে তাদের দেহে হরমোনের কার্যক্রম সঠিক ভাবে পরিচালিত হয়। ডিমপাড়া মুরগি পালন বর্তমান সময়ের একটি লাভজনক পেশা। বর্তমানেমিুরগির ডিমের চাহিদাও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা বছরই ডিমের ভালো দাম পাওয়া যায়।

ডিমপাড়া মুরগি পালন পদ্ধতি

ডিমপাড়া মুরগি

ডিমপাড়া দেশি বা লেয়ার মুরগি যেটাই হোক না কেন। ডিমপাড়া মুরগি পালন পদ্ধতি প্রধানত দুই প্রকার যথা-

  1. পারিবারিক ভাবে ছেড়ে পালন করা।
  2. বানিজ্যিক ভাবে সেডে বা ঘরে আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা।

পারিবারিক ভাবে ছেড়ে পালন করা

পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই পারিবারিক ভাবে মুরগি পালন করা হয়। আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে পুরগি পালন করা হয়। এ পদ্ধতিতে পালন কৃত মুরগি ডিম কম পারলেও এই মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং স্বাদও বেশি । আর তাই বাজারে দামটাও বেশি থাকে। বর্তমানে পারিবারিক ভাবে মুরগি পালনেও আধুকি ছোয়া এসেছে। পারিবারিক ভাবে ছোট্ট কাঠের বাক্সে আবদ্ধ অবস্থায় মুরগি পালন করা হচ্ছে।

বানিজ্যিক ভাবে সেডে বা ঘরে আবদ্ধ অবস্থায় পালন করা

বানিজ্যিক ভাবে সেডে বা ঘরে আবদ্ধ অবস্থায় ডিমপাড়া মুরগি পালন করা হয়। এ পদ্ধতিতে মুরগি পালন করলে মুরগি ভালো থাকে। খাদ্য ব্যবস্থাপনা সহজে করা যায়। চিকিৎসা করা, ডিম সংগ্রহ করা সকল কাজ আরো সহজ হয়। বর্তমানে দেশে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত শেডে মুরগি পালন করা হচ্ছে। আবদ্ধ অবস্থায় মুরগি পালন কে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যেতে পাড়ে।

  1. ফ্লোর বা মেঝেতে পালন
  2. খাচায় পালন

ফ্লোর বা মেঝেতে ডিমপাড়া মুরগি পালন

ফ্লোর বা মেঝেতে ডিমপাড়া মুরগি পালন করা হয়। এ পদ্ধতিতে মুরগির ডিম পাড়ার জন্য সেডের ভিতর আলাদা জায়গা ও আলাদা বাক্স থাকে। মুরগির ডিমপাড়ার সময় হলে মুরগি সেখানে গিয়ে ডিম পাড়ে।

আর বাকি সময় খাবারের জন্য অন্য মুরগির সাথে থাকে। এ পদ্ধতিতে বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখিন হতে হয়। মুরগি ডিম নষ্ট করে। তারপরও বাংলাদেশ, বারত সহ অনেক দেশে এই পদ্ধতিতে বেশি মুরগি পালন করা হয়।

ডিমপাড়া মুরগি পালনের খাচা মুলত লোহা চিন রড বা মোটা তার দিয়ে তৈরি করা হয়। তবে খাচার খরচ কমাতে বাঁশের কাঠি দিয়েও এই খাচা তৈরি করা যায়।

খাচয় ডিমপাড়া মুরগি পালন

বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের লেয়ার মুরগির খামারিরা খাচায় মুরগি পালনের মজা বুঝে গেছে। খাচায় মুরগি পালন করলে মুরগির অসুখ-বিসুখ খুব কম দেখা দেয়। অল্প জাইগায় অনেক মুরগি পালন করা যায। মুরগি রক্ষনাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ভালো করা যায়। মুরগির খাদ্য ব্যবস্থাপনা ভালো হয়। পরিশ্রম কম হয়। সর্বোপরি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। এটিই বর্তমানে স্বীকৃত ও জনোপ্রীয় পদ্ধতি।

অধীক ডিমপাড়া মুরগির বৈশিষ্ট্য সমূহ

ডিমপাড়া মুরগি পালন খামারিদের বেশি ডিম দেয়া মুরগি চেনা, এর আচরণ ও অন্যান্য লক্ষণগুলো সর্ম্পকে জানা খুবই জরুরী। মুরগির দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং এর আচরণের পর্যবেক্ষণের মাভ্যমে শরীরের অবস্থা উপলব্দি করা যায়।

এবং এভাবেই অধীক ডিমপাড়া মুরগি চেনা যায়। মুরগির জাত সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকতে হবে।

অনেক ক্ষেত্রে বাচ্চার প্যারেন্টস এর উপর ডিমের প্রডাকশন নির্বর করে।

মুরাগর মাথার অংশ

সাধারনত বেশি ডিম দেয়া মুরগির মাথা ছোট, হালকা এবং মাংশল অংশ কম থাকতে দেখা যায়। মাথার ঝুঁটি ও গলার ফুল থাকবে এবং উজ্জ্বল লাল কিংবা গোলাপি বর্ণের হবে । তবে এগুলো অবশ্য সফ্ট, ম্যাচুয়ার্ট ও বিতশিত হতে হবে। অনুজ্জল বা ফ্যাকাশে বর্ণ হলে ডিম কম হবে। কম্ব, ওয়াটল, এয়ারলোব সাইজে বড়, উজ্জ্বল হলে তা স্বাস্থ্যবান মুরগি। এমন মুরগি থেকে অধিক ডিম পাবেন। মুরগির চোখ-মুখ থেকে লাল আবা বের হবে।

চোখ, নাক ও ঠোঁট

মুরগির চোখের বর্ণ হতে হবে উজ্জল ও সতর্ক চেহারার। মুরগির নাক ও ঠোঁট থাকবে শ্লেষ্মাহীন ও পরিষ্কার। দেখা যায় নাক দিয়ে সর্দিঝরা কিংবা গলার ভেতর ঘড়ঘড় শব্দ করা মুরগি ডিম কম দেয়। মুরগির চোখ সাদা বা ফ্যাকাসে হলে সেউ মুরগি ডিম কম দেবে এবং অসুস্থ্য থাকবে বেশি সময়। মাথার ঝুটি, কানের লতি এগুলো উজ্জল ও গাঢ় লাল বর্ণের হবে। ডিমপাড়া মুরগি পালন করতে হলে মুরগির চোক-মুখের বাসা বুঝতে হয়।

মুরগির দেহ বা শরীর

সুন্দর, বৃহদাকৃতির দেহ গঠন, পিছনের দিক বৃহৎ, পা যথাযথ ফাঁকা থাকা কিন্তু সঠিকভাবে দাঁড়ানো মুরগি ভালমানের ডিম উৎপানকারী হয়। মুরগির দেহ সুগঠিত হতে হবে ভংগুর ও হালকা মুরগি ডিম কম দেবে।

পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্য ও পানি পান করবে এবং খাদ্য থলিতে খাবারে ভর্তি থাকবে। মুরগির পিঠ লম্বা ও প্রশস্ত হতে হবে। সবসময় তরতাজা থাকবে ও শরীরের কোনো অংশে খুঁত, অপূর্ণতা অথবা বিকলাঙ্গতা থাকবে না।

মুরগির বয়স অনুযায়ী ওজন থাকতে হবে। মুরগির শরীরের ওজন কম থাকলে মুরগি ডিম কম দেবে এটাই সাভাবিক।

মুরগির পালক

অধীক ডিমপাড়া মুরগি পালন এ সুস্থ অবস্থায় পালক উজ্জ্বল ও সুবিন্যস্ত থাাকে। এ ধরনের মুরগি সাধারণত মার্চ মাসের দিকে পালক পাল্টাতে দেখা যায়। তবে কখনো কখনো মাথার উপরিভাগের অংশ পালক শূন্য হয়ে টাকের সৃষ্টি হতে দেখা যায়। যদি কোনো মুরগি অতিরিক্ত চঞ্চল, সুসজ্জিত এবং নরম পালকের অধিকারী হয় তবে তা ডিম দিবে না। কারণ, সে তার গ্রহণকৃত প্রোটিন ডিম উৎপাদনে ব্যয় না করে শুধু সুন্দরী হওয়ার জন্য ব্যয় করছে। পালক পরিস্কার ও রঙিণ থাকলে ডিম ভালো দিবে আসাকরা যায়।

মুরগির বিহেবার বা আচরণ

অধীক ডিম দেয়া মুরগির আচরণ হবে সতর্কভাব, ভদ্র ও চঞ্চল প্রকৃতির। শুধুমাত্র ডিম পাড়ার সময় বাসায় ঢুকবে এবং কোনো সময় অলস বসে থাকবে না । অধীক ডিম পাড়া মুরগির ক্ষেত্রে দেখা যায় পিঠে হাত রাখলে সহজেই বসে পড়ে। মুরগির আচরন ডিমপাড়া মুরগি পালন কামারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মুরগির ভেতরে একবার বাজে সভাব ঢুকে গেলে সে মুরগি আর ভারো হয় না। একটি উদাহরন দেই। মুরগি যদি কয়েকদিন তার নিজের ডিম ক্ষেতে পারে তাহলে দেখা যায় সেই মুরগির আচরন আর ভালো হয় না।

ডিমপাড়া মুরগি পালন বিষয়ে সবশেষে বলতে চাই, সুস্থ এবং অধীক উৎপাদনশীল মুরগি চিহ্নিত করে তবেই পালন করা উচিৎ। এতে একদিকে যেমন রোগ-বালাই এর সম্ভাবনা কম থাকবে, তেমনি খামার থেকে অধীক উৎপাদন সম্ভব হবে। পাতলা ও অধীক মোটা মুরগি থেকে বেশি ডিম পাওয়া যায় না।

প্রীয় কামারি ডিমপাড়া মুরগির জাত নিয়ে অন্য একটি পোস্টে আলোজনা হবে ইনশাল্লাহ্। আসাকরি সেই পর্যন্ত বালো থাকবেন। পোস্ট টি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে যানাবেন।

আরো পড়ুন-

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!