জাম্বু ঘাসের পুষ্টিগুণ ও চাষ পদ্ধতি

জাম্বু ঘাস আমাদের দেশের আরেক টি জনপ্রীয় গবাদিপশুর ঘাস। জাম্বু ঘাস চাষ পদ্ধতি খুবই সহজ। জাম্বু ঘাস পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি উৎকৃষ্ট মানের ঘাস। এর ফলনও তুলনামুলক বেশ ভালো। এটি মুলত সরগম ঘাস। এই ঘাস বাংলাদেশে গ্যমা, ‍সুইট জাম্বু, জাম্বু স্টার, সুদান ঘাস, জার্মান সুদান ঘাস ইত্যাদি নামে পরিচিত।

এই ঘাস সাধারণত থেকে ৫-৭ ফিট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর পাতা চওড়া প্রকৃতির হয়। এই ঘাস খুব দ্রুত বেরে উঠে। এই ঘাসের বীজ ছোট, গোলাকার ও ধূসর রং এর হয়ে থাকে। একবার এই ঘাস চাষ করলে ৩-৪ বার এই ঘাস কাটা যায়। এই ঘাস সামান্য মিষ্টি প্রকৃতির হয়।

জাম্বু ঘাসের পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ

জাম্বু ঘাস
ড্রাই ম্যাটার১৯০ গ্রাম/কেজি
ক্রড প্রোটিন২১ গ্রাম/কেজি
জৈব পদার্থ১৮০ গ্রাম/কেজি
শক্তি১.৯৫ মেগাজুল/কেজি

জাম্বু ঘাস চাষ পদ্ধতি

  1. বীজ বপনের সময়– যে কোন সময় জাম্বু ঘাস চাষ করা যায়। তবে উত্তম সময় হচ্ছে ফাল্গুন অথবা চৈত্র মাসে।
  2. আবাদী জমির ধরন– প্রায় সব মাটিতেই জন্মে। তবে উত্তম বেলে-দো-আঁশ মাটিতে। পানি জমে না, পর্যাপ্ত সুর্যের আলো পায় এমন।
  3. জমি প্রস্তুত– দুই বা ততোধিক চাষ করে জমি প্রস্তুত করতে হবে। বন্যা পরবর্তী কাদা মাটিতেও কাটিং রোপন বা বীজ বপন করা যেতে পারে।
  4. কাটিং– হেক্টর প্রতি ৩৫-৪০ হাজার কাটিং বা মাথার প্রয়োজন হয়। লাইন থেকে লাইন ৭০ সে. মি. কাটিং থেকে কাটিং- ৩৫ সে.মি. মিনিমাম হতে হবে।
  5. বীজ বপণ– সারি-সারি ১০ ইঞ্চি , বীজ থেকে বীজ ৬ ইঞ্চি এবং প্রতি গর্তে ২টি বীজ বপন করতে হয়। সারিতে বপন করলে একর প্রতি ৫ কেজি বীজ এবং ছিটিয়ে বপন করলে ৭-৮ কেজি বীজ ব্যবহার করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
  6. সার প্রয়োগ– জমি তৈরির সময় গোবর/জৈব সার ১৫-২০ টন/হেক্টর ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও হেক্টর প্রতি ইউরিয়া সার ৫০ কেজি, টিএসপি সার ৭০ কেজি, এম পি সার ৩০ কেজি ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।
  7. উপরি প্রয়োগ- হেক্টর প্রতি ইউরিয়া ৫০-৭৫ কেজি ব্যবহার করতে হবে।
  8. প্রতি বার ঘাস কাটার পরপর- ইউরিয়া সার ৫০-৭৫ কেজি প্রতি হেক্টর ব্যবহার কর তে হবে।
  9. সেচ– শুকনো মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর পর সেচ দিতে হবে।
  10. ঘাস কাটার সময়– গ্রীষ্মকালে ৩০-৪৫ দিন পর পর এবং শীতকালে ৪০-৫০ দিন পরপর ঘাস কাটা যায়।
  11. উৎপাদন- ১০০ টন/হেক্টর।

জাম্বু ঘাসের উপকারিতা

জাম্বু ঘাসে অনেক পুষ্টিগুণ বিদ্যমান থাকায় ডেইরী বা দুগ্ধবতী গাভীর দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। হজমের সমস্যা হলে বা পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা জাম্বু ঘাস অনেক উপকারি।

গরু মোটাতাজাকরণে এই ঘাস ব্যবহার করলে মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

জাম্বু ঘাস চাষ পদ্ধতি অনুসরন করলে ঘাসের ফলন ভালো পাওয়া যাবে।

  1. ৩-৪ বার কাটা যায়।
  2. বেলে দোআঁশ বা এটেল মাটি ভাল।
  3. ২-৩ টি চাষ ও মই দিয়ে মাটি তৈরী করতে হবে।
  4. জমি তৈরীর সময় অবশ্যই গোবর সার, টিএসপি ও এমপি সার দিতে হবে।
  5. ঘাস কাটার পর জমিতে ইউরিয়া ও সেচ দিলে ফলন বাড়ে।
  6. সারি থেকে সারি ১০ ইঞ্চি ও বীজ থেকে বীজ ৬ ইঞ্চি এবং প্রতি গর্ত ২টি করে বীজ বপন করতে হবে।
  7. ৫০-৬০ দিন পর ১ম বার কাটিং দেওয়া যায় ও ২৫-৩০ দিন পরপর নেপিয়ার ঘাস কাটা যায়।

সাবধানতা

সেচ,বৃষ্টি ও ইউরিয়া সার প্রয়োগের পর ৭ দিন ঘাস গরুকে খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে এই ঘাস ১ দিন রোদে শুকিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে। এচাড়াও জাম্বু ঘাস চাষ পদ্ধতি তে নিচের সাবধানতা মেনে চলতে হবে।

আরো পড়ুন- নেপিয়ার ঘাস চাষ পদ্ধতি ও পুষ্টিগুণ, সুপার নেপিয়ার বা পাকচং ঘাস

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

2 thoughts on “জাম্বু ঘাসের পুষ্টিগুণ ও চাষ পদ্ধতি”

  1. জাম্বু ঘাসের বীজ দরকার (পাইকারি রেট বলেন)

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!