গাভীর গর্ভফুল না পড়লে করণীয় ও সমস্যার কারণ বিশ্লেষন

গাভীর গর্ভফুল না পড়লে করণীয় ও সমস্যার কারণ বিশ্লেষন। গাভীর গর্ভফুল আটকে যাওয়া (Retained Placenta) এখন খুবই সাধারণ ঘটনা। গাভীর গর্ভফুল না পড়লে করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনার আগে এর কারণ ও লক্ষণ নিয়ে আলোকপাত করা প্রয়োজন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রোগটি মিল্ক ফিভার (milk fever) ও ডিসটোসিয়া (dystocia) এর সাথে সম্পৃক্ত। এটি একটি গবাদি পশুর প্রজনন তন্ত্রের রোগ।

অনেক সময় গাভীর বাচ্চা প্রসবের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গর্ভফুল বের হয়না এবং এসব ক্ষেত্রে গর্ভফুলের অংশ বিশেষ বাইরের দিক হতে ঝুলে থাকে। সাধারণত বাছুর প্রসবের ৩০ মিনিট থেকে আট ঘন্টার মধ্যে গর্ভফুল পড়ে যায়। অনেক সময় গাভী গরুর গর্ভফুল স্বাভাবিক ভাবে আর বের হয়ে আসে না। এটাকেই গবাদি পশুর ফুল না পরা বা আটকে যাওয়া বলে।

গাভীর গর্ভফুল না পড়লে করণীয়

সমস্যার কারণ

  • গর্ভাবস্থায় গাভীর শরীরে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ,ডি,ই ও মিনারেলের অভাব হলে।
  • গাভী গর্ভকালীন সময়ে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস ও সুষম দানাদার খাদ্য না খাওয়ালে।
  • নির্দিষ্ট সময়ের আগে বা পরে বাচ্চা প্রসব করলে।
  • গর্ভপাত, অপরিনত, মৃত, বিকলঙ্গা বাছুর প্রসব করলে।
  • জোর পূর্বক বাছুর টেনে বের করলে।
  • ইস্ট্রোজেন হরমোনের অভাব ও অপুষ্টি দেখা দিলে।
  • সংক্রমণ জনিত রোগ ব্রুসেলোসিস হলে।

লক্ষণ

গাভী বাচ্চা প্রসবের ২৪ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়া সত্বেও গাভী গরুর গর্ভফুল বের না হওয়া হলো অন্যতম প্রধান লক্ষণ। গর্ভফুল বোশ দিন আটকে থাকলে জরায়ু প্রদাহ ও সেপ্টিসেমিয়ার কারণে গাভী মারা যেতে পারে।

  • গাভীর বাচ্চা প্রসবের পর গর্ভফুল অর্ধেকটা বের হয়ে নিচের দিকে ঝুলে থাকে।
  • গাভীর শরীরে অল্প জ্বর, অস্বস্তি বোধ ও খাবার খাওয়ায় অরুচী দেখা দেয়।
  • গর্ভফুল বের করার জন্য বার বার কোৎ দিতে থাকবে। এতে জরায়ু বের হয়ে আসতে পারে।
  • ভেজাইনাল ও জরায়ুর প্রলাপস হতে দেখা যায়।
  • প্রস্রাব করার সময় দুর্গন্ধ বের হবে ও গাভীর দুধ কমে যাবে।

গাভীর গর্ভফুল না পড়লে করণীয় বিষয়

২৪ ঘন্টার মধ্যে গাভীর গর্ভফুল না পড়লে করণীয় বিষয় সমূহ-

  • বাহিরের ঝুলন্ত অংশ যতদুর সম্ভব টেনে কেটে দিতে হবে। এবং জীবাণুনাশক ও গরম পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
  • অক্সিটোসিন বা প্রোস্টাগ্লাডিন হরমোন ইনজেকশন (PG) মাংসে দিলে দ্রুত গর্ভফুল পড়ে যায়।
  • U-Flash / Super Womb / বা গাভীর গর্ভফুল বের হতে কার্যকরী আরো অনেক ওরাল সাসপেনশন / লিকুইড ফিড প্রিমিক্স বাজারে আছে সেগুলোও খাওয়ানো যেতে পারে।
  • জরায়ুতে সংক্রমন থাকলে ট্রাইজেক্ট ভেট / ট্রাইজেক্ট ভেট ইনজেকশন অথবা মারবো ভেট ইনজেকশন গাভীর মাংশপেশীতে প্রয়োগ করতে হবে।
  • গাভীর শরীরে জ্বর থাকলে জ্বর ও ব্যাথানাশক ঔষধ প্রয়োগ/খাওয়াতে হবে।
  • গাভীকে ক্যালসিয়াম ইনজেকশন শিরায় প্রয়োগ করতে হবে।
  • ভেজাইনার চারিদিকে জীবাণুমুক্ত করে তারপিন তেল লাগিয়ে দিতে হবে এতে মাছির উপদ্রব কম হয়।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা

  • গাভীর দুগ্ধ বিহীন সময় বা dry cow management নিশ্চিত করতে হবে।
  • পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।
  • গাভীর বাসস্থান সবসময় শুষ্ক ও পরিষ্কার রাখতে হবে।
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!