গর্ভবতী গাভীর পরিচর্যা ও গাভী গরুর যত্ন

গর্ভবতী গাভীর পরিচর্যা ও গাভী গরুর যত্ন। গর্ভাবস্থা গাভীর একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় গর্ভবতী গাভীর পরিচর্যা সঠিক হওয়া চাই। গর্ভবতী গাভীর পরিচর্যা পুরোপুরি সম্পন্ন হলেই কেবল সেই গাভী থেকে সর্বোচ্চ উৎপাদন সম্ভব হবে।

গর্ভবতী গাভীর পরিচর্যা

গাভী গরুর দৈনন্দিন পরিচর্যা ও যত্ন

গাভীর স্বাস্থ্যরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে দৈনন্দিন যত্ন ও পরিচর্যা গুরুত্বপূর্ণ এবং এজন্য-

  • প্রতিদিন সঠিক সময়ে খাদ্য প্রদাণ করতে হবে।
  • পরিমিত পরিমাণ দানাদার খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
  • গাভীর থাকার স্থান পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখতে হবে।
  • গোবর ও মুত্র সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • গোয়ালের ড্রেন সবসময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • খাদ্য সরবরাহের আগে পাত্র ভালো ভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
  • গাভী গরুকে নিয়মিত গোছল করাতে হবে।
  • খাদ্য সংরক্ষণ ঘর পরিষ্কার ও কিট-পতঙ্গ মুক্ত রাখতে হবে।
  • আঁশ জাতীয় খাদ্য সঠিক ভাবে প্রক্রিয়াজাত করে গাভী গরুতে সরবরাহ করতে হবে।
  • দানাদার খাদ্য সঠিক নিয়মে ভেঙ্গে সরবরাহ করতে হবে।
  • প্রতি ৩-৪ মাস অন্তর অন্তর কৃমিনাশক প্রয়োগ করতে হবে।
  • নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচী অনুসরণ করতে হবে।

গর্ভবতী গাভীর পরিচর্যা ও যত্ন

গাভীর গর্ভধারণ কাল ২৫০-২৭০ দিন হয়ে থাকে। এই সময়ে গাভী বা বকনার যত্ন ও পরিচর্যা গাভীর স্বাভাবিক প্রসব, সুস্থ-সবল বাচ্চা, দুধ উৎপাদনের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে গর্ভবতী গাভীর পরিচর্যা নিম্নরূপ হওয়া দরকার।

  1. প্রজননের ৮০-৯০ দিন পর গর্ভধারণ ভেটেরিনারি চিকিৎসক দ্বারা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে।
  2. বাচ্চা প্রসবের সম্ভাব্য দিন নির্নয় করতে হবে।
  3. ৫-৬ মাস গর্ভধারনকালে খাদ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে।
  4. কোনরূপ দৌড়-ঝাপ থেকে গাভীকে বিরত রাখতে হবে।
  5. গর্ভধারণের ৭-৮ মাসের মধ্যে এর দুগ্ধদোহন ক্রমান্বয়ে বন্ধ করতে হবে।
  6. গাভীকে ভীত বা উত্তেজিত করা যাবে না।
  7. হাল চাষ, গাড়ি টানা, শস্য মাড়াই এরকম কাজে গাভকে ব্যবহার করা হবে না।
  8. গাভীর গর্ভের বাচ্চার পুষ্টি ও ভবিষ্যতের দুধ উৎপাদনের জন্য এবং দেহে পুষ্টির সঞ্চয় গড়ে তোলার জন্য অতিরিক্ত সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হবে।
  9. বাচ্চা প্রসবের ৩ সপ্তাহ আগে থেকে সহজ পাচ্য খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। এবং দানাদার খাদ্যের পরিমান কমিয়ে দিতে হবে।
  10. সপ্তাহে ২ দিন গোছল করাতে হবে।

গর্ভবতী গাভীর খাদ্য তালিকা

গর্ভবতী গাভীকে প্রতিদিন ১৪-১৫ কেজি সবুজ ঘাস, ৩-৪ কেজি খড়, ২-৩ কেজি দানাদার খাদ্য একসঙ্গে মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।

দানাদার খাবারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উপাদান হচ্ছে-

গর্ভবতী গাভীর শেষ মুহূর্তের লক্ষণ

গর্ভধারণের শেষ দিকে বাছুরের দ্রুত বৃদ্ধি হওয়ায় গাভর পেটের ডান দিক খুব বড় হয়ে ওঠে। এছাড়াও আরো আনেক লক্ষণ প্রকাশ পায়-

  1. গাভরি ওলান বেশ বড় ও বাটগুলো সতেজ ও টানটান দেখা যাবে।
  2. যোনিমুখ স্ফীত, শিথিল ও থলথলে হবে।
  3. যোনিমুখ দিয়ে পরিষ্কার তরল পদার্থ বের হবে।
  4. গাভরি রূচি হমে যাবে।
  5. বাছুর প্রসবের আগের মুহূর্তে গাভীকে ভীত ও সংকিত দেখাবে।

প্রসব পরবর্তী গাভীর পরিচর্যা

  • বাছুর হওয়ার পরপরই গাভটিকে আরামদায়ক পরিবেশ দিতে হবে।
  • বাচ্চা প্রসবের ৩০ মিনিট পর কুসুম গরম পানি ও ৫০০ গ্রাম আখের গুড় মিশিয়ে খাওয়াতে হবে।
  • গাভীকে সহজ পাচ্য খাদ্য দিতে হবে।
  • ২৪ ঘন্টার মধ্যেও গর্ভফুল না পরলেও হাত দিয়ে বেরকরা যাবে না। কয়েক দিনের মধ্যে আপনা আপনি পচে এটি বের হয়ে যাবে। অথবা গর্ভফুল বের হওয়ার জন্য ঔষধ ব্যবহার করতে হবে।

গর্ভবতী গাভীর ঔষধ

গর্ভবতী গাভীর শরীরের দরকারি পুষ্টির ঘাটতি পুরনের জন্য ও পরবর্তি বাছুর প্রদান ও দুধ উৎপাদনের জন্য অনেকগুলো পুষ্টি প্রিমিক্স বা ভেটেরিনারি ঔষধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়।

  • গাভীকে চিকিৎশকের পরামর্শ অনুযায়ী কৃমি মুক্ত করতে হবে।
  • নিয়মিত খাবারের সাথে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট প্রদাণ করতে হবে। যেমন- সানক্যালভেট ওরাল, সানক্যালভেট পাওডার, ক্যালভেট পি, রেনাক্যাল পি, ইত্যাদি।
  • ভিটামিন এ,ডি,ই ইনজেকশন অথবা ওরাল ব্যবহার করতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় ২ ডোজ আইরোন সিরাপ খাওয়াতে হবে।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!