গরুর বীজ- দাম, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

গরুর বীজ- দাম, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ। বর্তমানে বাংলাদেশে শত ভাগ গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন করা হয়। এবং সেই সাথে প্রায় সকল উন্নত জাতের গরুর বীজ খুব সামান্য দামে হাতের খুব কাছাকাছি পাওয়া যায়। এটি সম্ভব হয়েছে বেসরকারি ভাবে বীদেশ থেকে গরুর সিমেন আমদানী করায় সরকারী অনুমোদন আসায়।

সাধারণত ষাঁড় থেকে বীজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে গাভী গরুর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করাকে গরুর কৃত্রিম প্রজনন বলে। বাংলাদেশ সরকারের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয় এই কৃত্রিম প্রজনন ও জাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেছে।

গরুর বীজ

সিমেন উৎপাদন, আমদানী ও প্রজননকারী প্রতিষ্ঠান

বর্তমান সময়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সহ বেসরকারি অনেক গুলো প্রতিষ্ঠাণ গরু, ছাগল ও মহিষের বীজ সংগ্রহ, উৎপাদন, আমদানী ও কৃত্রিম প্রজনন সম্পন্ন করছে। আর এটি অধীক উৎপাদন অর্জনে সবচেয়ে গুরুত্বপূণ ভুমিকা পালন করছে। গরুর বীজ উৎপাদন, আমদানী ও প্রজননকারী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো।

  1. প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়
  2. ব্রাক কৃত্রিম প্রজনন
  3. এসিআই এনিমেল জেনেটিকস
  4. আমেরিকান ডেইরী লিমিটেড
  5. লাল তীর লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট (বিডি) লিমিটেড

উন্নত জাতের গরুর বীজের নাম

আমাদের বাংলাদেশে যেসকল উন্নত জাতের গরুর হিমায়ীত বীজ পাওয়া যায় তাদের নাম হলো।

গরুর বীজের দাম

গরুর বীজের দাম বলতে বোঝায়, একজন প্রজনন কর্মী নাইট্রোজেন ক্যানে সংরক্ষিত হিমায়ীত বীজ দ্বারা গরুর কৃত্রিম প্রজনন ঘটিয়ে সর্বনিম্ন যে দাম বা মূল্যটি নিয়ে থাকে। গরুর বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, গরুর জাত, ব্লাড পর্সেন্টেন্স, প্রজননকারীর দক্ষতা, অবস্থান ইত্যাদির পার্থক্যের কারনে গরুর বীজের দামে কিছুটা পার্থক্য হয়ে থাকে। নিম্নে গরুর বীজের দামের একটি তালিকা প্রদান করা হলো।

গরুর বীজের দামের তালিকা

গরুর জাতের নামব্লাড পার্সেন্টেন্সদাম / মূল্য
রেড চিটাগাং১০০ %৩০০-৪০০ টাকা
হলিস্ট্রিন ফ্রিজিয়ান৮৭ %৪০০-৫০০ টাকা
হলিস্ট্রিন ফ্রিজিয়ান১০০ %৫০০-৬০০ টাকা
শাহিওয়াল ৮৭ %৪০০-৫০০ টাকা
শাহিওয়াল১০০ %৫০০-৬০০ টাকা
গির ১০০ %৫০০-৬০০ টাকা
ফ্লেকভি১০০ %৬০০-৮০০ টাকা
ব্রাহমা১০০ %১৪০০-১৫০০ টাকা
বি:দ্র:- গরুর বীজের দামের তালিকাটি করা হয়েছে গ্রামীন অন্চলের খামারিদের মাঝে জরিপ করে একটি গড় হিসাবে। এটি কোন নির্ধারিত মূল্য নয়। স্থান ভেদে এই দামের অনেক কম ও বেশি দামেও বীজ প্রদানের মাধ্যমে কৃত্রিম প্রজনন করান হয়।

সিমেন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ

গরুর সিমেন বা বীজ সংগ্রহের মাধ্যমটি একটি অতি চমৎকার ও সহজ প্রক্রিয়া। প্রথমে প্রাপ্ত বয়স্ক বুল বা ষাঁড় কে একটি বকনা বা গাভীর সংস্পর্শে এনে উতপ্ত করে নেওয়া হয়। এতে ষাঁড়টি তার পুরুষ লিঙ্গ বের করে এবং এই পুরুষ লিঙ্গে একপ্রকার হালকা গরম টিউব পরিয়ে দেওয়া হয়। এতেই ষাড়টি তার বীজ বের করে দেয়। এই বীজ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে প্রজননের জন্য সরবরাহ করা হয়।

নাইট্রোজেন ক্যানে হীমায়ীত ভাবে গরুর সিমেন বা বীজ সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি প্রজনন কর্মীর কাছে এক বা একাধিক নাইট্রোজেন ক্যান থাকে যেখানে তাদের প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ কৃত বীজ সংরক্ষিত থাকে। এবং সেখান থেকে কৃত্রিম প্রজননে ব্যবহার করা হয়।

কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিব্যবহারের জন্য উন্নত ষাঁড়ের শুক্রাণু ব্যবহার ও সুস্থ গাভীর প্রজনন অঙ্গেস্থাপন করতে পারলে বছরে বাচ্চা উৎপাদন দু’লক্ষেরও বেশি পাওয়া সম্ভব।বাকৃবি এ ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য পেয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ব্যাপকহারে এপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলে শিগগিরই ডেইরি শিল্প কাঙ্খিত স্বপ্নে পৌছাতেপারবে।

সাধারণত একটি ষাঁড়ের বীজ থেকে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৮০টি গাভীর প্রজনন করানো সম্ভব হয়। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে একটি ষাঁড় থেকে প্রতি বছরে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ গাভী কৃত্রিম প্রজনন করানো যায়। স্বাভাবিকভাবে এই প্রজনন পদ্ধতির মাধ্যমে একটি ষাঁড় বা বুল সর্বমোট ৭০০ থেকে ৯০০টি বাছুর প্রসবে ভূমিকারাখতে পারে। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে অনেকাংশে গাভীর সংক্রামক ব্যাধি রোধ করা যায়।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

4 thoughts on “গরুর বীজ- দাম, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ”

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!