গরুর গিরা ফোলা রোগ, ঔষধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি

গরুর গিরা ফোলা রোগ, ঔষধ ও চিকিৎসা পদ্ধতির। গাভী গরুর পায়ের গিরা ফুলে যাওয়া এই রোগটি মুলত ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। বাণিজ্যিক দুগ্ধ খামারের মারাত্বক রোগ গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। এই রোগে আক্রান্ত গরুর দুই বা চারটি পায়ের গিরাই ফুলে যায়। গরু পায়ে ব্যথা অনুভব করে ও খুরিয়ে হাটে। এই রোগের ঔষধ বা চিকিৎসা খরচ বেশি।

গরুর গিরা ফোলা রোগ

গরুর গিরা ফোলা রোগ কেন হয়

স্টেপ্টোকোক্কাস প্রজাতি (Streptococcus spp), স্ট্যাফাইলোকোক্কাস প্রজাতি (Staphylococcus spp), করাইনোব্যাকটেরিয়াম পায়োজেনেসস (Corynebacterium pyogenes), ই. কোলাই (E. Coli) ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমনের ফলে এই রোগ হয়।

এছাড়াও দুগ্ধবতী গাভীর শরীরে বিভিন্ন মিনারেল বা খনিজ পদার্থের ঘাটতি থাকলে এই রোগ হতে পারে। এসকল মিনারেলের মধ্যে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের অন্যতম। মাইকোপ্লাজমা, নিউমোনিয়া, ম্যাসটাইটিস বা ওলান প্রদাহ, বাছুরের নাভী পাকা ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হলে।

ক্ষুরা রোগে (FMD) আক্রান্তের পর সঠিক চিকিৎসার অভাব থাকলে গিরা আক্রান্ত হতে পারে।

সহযোগী কারণ

এসকল প্রধান কারণ ছাড়াও এ রোগের কিছু সহযোগী কারণ রয়েছে যেমন-

গরুর ঘরের মেঝে উঁচু নিচু গর্তযুক্ত বা বেশি ঢালু হলে। যদি গাভীকে খুব কষ্ট করে দাড়িয়ে বা শুয়ে থাকতে হয় অথবা গাভীকে বেশিক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখলে বা হাঁটালে পায়ের উপর অধিক চাপ তৈরী হয়েও এসমস্যা হতে পারে। অল্প জায়গার বেশি গরু পালন কখনো কখনো এ সমস্যা হতে পারে। গাভীকে সর্বদা গোয়াল ঘরে বেঁধে রাখলে পায়ের গিরার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা লোপ পেয়ে গরুর গিরা ফোলা রোগ হতে পারে।

গিরা ফোলা রোগে আক্রান্ত হলে গরুর শরীরে নানাবিধ সমস্যার তৈরী হয়। যেমন- গাভীর ক্ষেত্রে দুধ ও মাংস উৎপাদন কমে যায়। চিকিৎসা খরচ বেশি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে গরু সম্পূর্ণ ভালো হয় না।

গরুর গিরা ফোলা রোগের লক্ষণ

  1. গরুর পায়ের গিরা ফুলে যাবে, গরু উল্লেখযোগ্য ব্যথা ব্যাথা অনুভব করে।
  2. গাভীর কর্মতৎপরতা কমে যায়।
  3. স্বাভাবিক ভাবে হাঁটাচলা করতে কষ্ট পায়।
  4. শোয় বা ওঠার সময় প্রচন্ড কষ্ট পায়।
  5. গিরা সামান্য গরম মনে হয় এবং টিপ দিলে ফোলা অনুভব হয়।
  6. শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
  7. খাওয়া দাওয়া কম করে।
  8. ওজন ও দুধ কমে যায়।
গরুর গিরা ফোলা রোগ

চিকিৎসা

রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারি ডাক্তারের পরামর্শ বা গরু দেখে চিকিৎসা করাতে হবে। চিকৎসায় কোনরুপ অবহেলা করা যাবে না। গরুর গিরা ফোলা রোগের ক্ষেত্রে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্য এন্টিবায়োটিক যেমন- টাইলোসিন (), পেনিসিলিন (), স্টেপটোমাসিন (), এম্পিসিলিন সোডিয়াম (), সেফট্রাক্সন গ্রুপের এন্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যবহার করা হয়।

গরুর বডি কন্ডিশন বুঝে বিভিন্ন নিউট্রেশনাল সাপ্লিমেন্ট প্রয়োগ করতে হয়। যেমন- ক্যালসিয়াম ইনজেকশন বা সিরাপ, মাল্টিভিটামিন, মাল্টিমিনারেল ও এমাইন এসিড সমৃদ্ধ ইনজেকশন বা সিরাপ প্রয়োগ করতে হবে।

গরুকে কৃমি মুক্ত ও করে লিভার টনিক খাওয়াতে হবে।

রোগ প্রতিরোধের উপায়

স্বাস্থ্য সচেতন থাকলেই এই রোগ থেকে সহজেই মুক্ত থাকা যায়। গরুর গিরা ফোলা রোগ থেকে মুক্ত রাখতে নিম্নক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

গরুর শরীরে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ডি৩ এর অভাব যেন না থাকে সেজন্য নিয়মিত এই উপাদান গুলো খাদ্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

গরুকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস খেতে দিতে হবে। সুষম দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। ঘরের মেঝে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, শুষ্ক ও সমতল হতে হবে। গরুকে কৃমি মুক্ত রাখতে হবে।

লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

3 thoughts on “গরুর গিরা ফোলা রোগ, ঔষধ ও চিকিৎসা পদ্ধতি”

  1. আমার গভীর হাটু ফুলা বা পানি আসার প্রতিকার কি

  2. হৃদয় হুসাইন

    আমার একটি গরু আছে সেই গরুটার দেখছি একটা পা ফুলেছে আর খুড়াই হাটছে এর পতিকার কি বল্লেবেন প্লিজ

  3. Md. Shaiful Islam

    ভাই একটি ভালো ডাক্তারকে দেখান, কেন হয়েছে এবং কি কি ব্যবস্থা নিতে হবে তা পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। অবহেলা করবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!