গবাদিপশুর লিভার টনিক ও ব্যবহার

গবাদিপশুর লিভার টনিক একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এনিমেল ফিড সাপ্লিমেন্ট বা ওরাল সাসপেনসন। গবাদিপশুর লিভার টনিক ব্যবহারে গরুর শরীরের সকল জৈবিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। গরু সুস্থ থাকে ও গবাদিপশু থেকে অধিক উৎপাদন অর্যন করা যায়। আজকের আলোচনায় আমরা গরুর এই টনিক টির প্রযোজনীয়তা, খাওয়ানোর নিয়ম এবং কিছু লিভার টনিকের নাম ইত্যাদি উঠে আসবে। আসাকরি সম্পূর্ণটা পরবেন।

লিভার টনিক কী?

গবাদিপশুর লিভার টনিক

যে টনিক বা সাসপেনশন গরু ছাগলের লিভারের উপর কাজ করে লিভার বা কলিজাকে সুস্থ ও অধিক কার্যকরী করে তেলে তাকে গরুর লিভার-টনিক বলে। আমাদের দেশে মুলত দুই ধরনের লিভার টনিক পাওয়া যায়। যথা- হারবাল ও ক্যামিকাল। হারবাল টনিক টি মোটামুটি ভালো কাজ করতে পারলেও ক্যামিক্যালের মত খুব বেশি শক্তিশালী নয়।

লিভার টনিকের প্রয়োজনীয়তা

গবাদিপশুর লিভার টনিক কিভাবে কাজ করে? হার্বাল টনিকে বিভিন্ন হার্বাল উপাদান থাকে যা লিভারের ক্ষতিগ্রস্ত টিসুকে সারিয়ে তোলে। তবে ক্যামিক্যাল লিভার টনিক সবচেয়ে বেশি কার্যকারি। ক্যামিকাল টনিকে বিভিন্ন দরকারি ভিটামিন সহ কোলিন ক্লোরাইড ও বিটেইন থাকে যা দ্রুত লিভার কে কিউর করে।

ইংরেজি লিভারের সোজা সাপ্টা বাংলা প্রতিশব্দ হল কলিজা। আর লিভার টনিক মানে হল কলিজা ভাল করার ঔষধ। কৃমিনাশকের তিক্ত স্বাদ গ্রহন করে গরু যখন মুখ কালো করে অভিমান করে বসে থাকে। তখনি দরকার এটি ভালো মানের কলিজা টনিকে। এই টনিক গরুর মুখে হাসি ফুটাবে। মনের আনন্দে হেসে খেলে খাওয়া দাওয়া শুরু করবে। বেশি বেশি খাবে আর ফুলতে থাকবে। গরু থাকবে রোগ প্রতিরোধী ও সুস্থ্য।

এই টনিক লিভারকে সুস্থ ও সুরক্ষিত করে। কলিজা কৃমি যদি লিভার কে ফুটো ফুটো করে দেয় সেটাও সারিয়ে তোলে এই মহৌষধ। এটি লিভার থেকে এক ধরনের হজম  রস নিঃসরনে সহায়তা করে। এই রস পেটের মধ্যে গিয়ে যাকে পাই তাকেই পিষে ফেলে। তাই পরিপাকে বা হজমে আর বাঁধা থাকে না। গরুর হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় বহু গুণ।

গবাদিপশুর লিভার টনিক পরিচিতি বা নাম

বাজারে অনেক ধরনের টনিক পাওয়া যায়। এখানে কিছু লিভার টনিকের নাম উল্লেখ করা হলো-

  • Hepamin forte (Alanco)
  • Super Liv (Aci)
  • Hepato vet (Acmi)
  • Livatone (Globe)
  • Renaliv (Renata)
  • Hepa Amain (Aci)
  • Liva-Vet (Square)

এখন পছন্দ আপনার। বুদ্ধিমানের কাজ হবে একজন রেজিষ্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

বাছুরের লিভারের জন্য কোনটি?

আমাদের দেশের বাছুর গুলো সবচেয়ে বেশি ঝুকিপূর্ণ থাকে এই লিভার ডিসওর্ডার রোগে। বাছুর কে কলিজা কৃমি সহ সকল কৃমি মুক্ত করা না হলে বাছুরের লিভার পুরোপুরি নষ্ট হয়ে বাছুর মারা যায়। তবে ভালোমানের লিভার টনিক সারিয়ে তুলতে পারে এই সমস্যা।

সেরা মানের বলতে ক্যামিকেল লিভার টনিক যেমন- হেপা এমাইন (এসিআই) এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়াও স্কয়ার কম্পাণীর লিভাভেট টিরও ব্যবহারে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। বাছুর গরু কৃমি মুক্ত করণ করার ১৫ দিন আগে ও কুমি মুক্ত করণ করার পরপরই এই টনিক ব্যবহার করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

গবাদিপশুকে লিভার টনিক খাওয়ানোর নিয়ম

এই টনিক ৫-৭ দিনের বেশি খাওয়ানো যাবে না। প্রথম কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানোর পরবর্তী  দিন থেকে নির্দেশনা মোতাবেক ৫-৭ দিন এই টনিক খাওয়ানো ভালো। এরপর বন্ধ থাকবে। আবার পরবর্তীতে ১০-১৪ দিন পর যদি দ্বিতীয় ডোজ কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়াতে হবে। তারপরের দিন থেকে আবারো ৫-৭ দিন খাওয়াবেন। এই মিলে মোট দুই বার। গবাদিপশুর যদি পাতলা পায়খানা হয় তাহলে অবশ্যই এই টনিক খাওয়ানো বন্ধ রাখতে হবে।

খাওয়ানোর সময়

হ্যা প্রীয় খামারি ভাই, এই টনিক সব সময় খাওয়াতে হয় না। আপনি কিভাবে বুঝবেন কখন গরুর লিভারের জন্য টনিত দিতে হবে আগে সেটা নিয়ে আলোচনা করি। গরুর লিভার দুর্বল হয়ে গেলে গরু কে এই টনিক দিতে হবে। গরুর লিভার কৃমিতে আক্রান্ত হলে বা খাদ্যের টক্সিসিটিরর কারণে গরুর লিভার দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়ে। গরুর লিভার দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়লে নিম্নক্তো লক্ষ্যণ প্রকাশ পায়।

  • গরুর খাবারে রুচি কমে যায়
  • শরীরে মাংশ তৈরি হয় না।
  • চামরা ও লোম উসকো খুসকো হয়ে যায়।
  • শরীরে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়।
  • শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

গরু লিভার কৃমিতে বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হলে তাকে কৃমি মুক্ত করতে আগে লিভার এর পরিচর্জা করতে হবে। তার পর কলিজা কৃমি ধ্বংশ করা ইনজেকশন প্রয়োগ করতে হবে।

হারবাল

ক্যামিক্যাল

আরো পড়ুন- গরুর কৃমি ও কৃমিনাশক ঔষধ
লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!